বসন্তে ফুটেছে দুর্লভ ‘পাখি ফুল’

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম:


‘পাখি’ নামটি শুনলে অজান্তেই মনে পক্ষীকূলের ধারণা চলে আসে। তবে এই বসন্তে দুর্লভ ‘পাখি ফুল’ ও পাখির গুঞ্জন দুটোই একসঙ্গে ধরা দিয়েছে দেশসেরা বিদ্যাপিঠ রাজশাহী কলেজের প্রকৃতিতে। সবুজ পাতার আড়ালে বাদুড়ের মতো উল্টো হয়ে ঝুঁলে আছে মনকাড়া সৌন্দর্যের ‘পাখি ফুল’। রাজশাহী কলেজের প্রশাসন ভবনের ডানের রাস্তা হয়ে ‘হাজী মোহাম্মদ মহসিন’ ভবনের দিয়ে এগিয়ে যেতেই রাস্তার ডান পাশে চোখে পড়বে এই ফুলের। শুধু এটিই এই কলেজে আরও একটি পাখি ফুল গাছ রয়েছে সমাজবিজ্ঞান ভবনের পাশে। দুর্লভ প্রজাতির এই ফুল রাজশাহী অঞ্চলে শুধুমাত্র রাজশাহী কলেজেই রয়েছে।

জানা যায়, পাখি ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম (Brownea coccinea) । এটি মূলত ভেনেজুয়েলার ফুল। তাই এর প্রচলিত নাম নরোজ অব ভেনেজুয়েলা। প্রজাতিটি গায়ানা, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর স্থানীয় প্রজাতি। আমাদের দেশে এটি দুর্লভ।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের পাশে একটি, রমনা পার্ক, শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও চট্টগ্রামের বৌদ্ধ বিহারে এই গাছ আছে। সারা বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েকটি গাছ আছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এই গাছ সম্পর্কে জানেন না। তবে রাজশাহী কলেজে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর থেকে একটি এবং গত তিন বছর আগে আরেকটি গাছ লাগানো হয়।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক জানান, গাছটি খুবই দুর্লভ। তবে কলেজে কে লাগিয়েছে তা জানা নেই। সুন্দর লাল টকটকে ফুল আসে। দেখতে খুব সুন্দর। তবে খুব বেশি সময় ফুলগুলো স্থায়ী হয় না। আর এক সঙ্গে দু’তিনটার বেশি ফুটন্ত ফুল দেখাও যায় না।

রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা. হবিবুর রহমান জানান, পাখি ফুল গাছটি খুবই দুর্লভ। জানামতে, সারাদেশে মাত্র তিন জায়গায় এই গাছ আছে। এরমধ্যে রাজশাহী কলেজের প্রশাসন ভবনের পিছনের এই গাছটির বয়স প্রায় ৫০ বছর। এই গাছটি কিভাবে বংশবিস্তার করে এটা এখনো অজানা। বোটানিক বিভাগের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এর বংশবিস্তার সম্পর্কে তেমন তথ্য দিতে পারে নি। এতটুকু জানিয়েছে এটা কলম পদ্ধতিতে বংশবিস্তার হয় না।

তিনি আরও জানান, তবে এই গাছটির নিচে হঠাৎ করে প্রায় তিন বছর আগে একটি চারা গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এই চারা গাছ কিভাবে হলো সেটাও অজানা। পরবর্তীতে ওই চারা গাছটিকে কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামনে লাগানো হয়। গাছটি বড় হয়েছে। কিন্ত ফুল আসে নি।

এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রেজাউল করীম বলেন, এটা আমাদের দেশে দুর্লভ। রাজশাহী কলেজে যে গাছটি আছে এটা মূলত ব্রিটিশদের লাগানো। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার করা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত এই গাছ নিয়ে আমাদর তেমন কোনো গবেষণা নেই। তবে সামনে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।

রাজশাহীতে বিলুপ্ত প্রজাতির বৃক্ষ সংগ্রহ নিয়ে কাজ করেন পলাশ। তিনি জানান, সারাদেশে জানামতে মাত্র ৩ জায়গায় এই ফুল আছে। এরমধ্যে রাজশাহী কলেজে একটি। এটির মূলত তিনটি প্রজাতির হয়ে থাকে। হলুদ, কালো ও গোলাপি।