বহিষ্কৃত দলিল লেখকের হাতে রেকর্ড কিপার লাঞ্ছিত

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০১৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী সদর দলিল লেখক সমিতির বহিস্কৃত সদস্য শফিউর রহমান ওরফে রুমেন্ট বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের রেকর্ড কিপার লুৎফার রহমানকে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে লুৎফার রহমানের কার্যালয়েই এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা সরকারি মূল্যবান রেকর্ড ও ভলিউমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দলিল লেখার সময় জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার প্রমাণ পাওয়ায় কয়েক মাস আগে শফিউর রহমান রুমেন্টসহ তার তিনজন সহযোগীকে দলিল লেখক সমিতি থেকে বহিস্কার করা হয়। জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে তার সনদ স্থগিতও করা হয়। এরপরেও তিনি দলিল লেখার কাজ করে আসছিলেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে রুমেন্ট জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে দলিলের ইনডেক্স বই আনার জন্য তার চাচাতো ভাই নাইমকে পাঠান। কিন্তু রুমেন্টের দলিল লেখার সনদ না থাকায় রেকর্ড কিপার নাইমকে ইনডেক্স বই দেননি। এ সময় নাইম গিয়ে রুমেন্টকে বিষয়টি জানান। এর ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে ১০ থেকে ১২ জন বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে লুৎফার রহমানের অফিসে হানা দেন রুমেন্ট। এ সময় তিনি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে লুৎফার রহমান কৌশলে তিনতলা থেকে পালিয়ে দোতলায় জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার পরিস্থিতি শান্ত করেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রেকর্ড কিপার লুৎফার রহমান বলেন, দলিল লেখার সনদ না থাকলে কাউকে দলিলের ইনডেক্স বই দেয়া যায় না। কিন্তু শফিউর রহমান রুমেন্ট জোর করে ইনডেক্স বই নিয়ে যেতে চান। এতে বাধা দিলে তিনি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে তিনি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে এ ব্যাপারে নালিশ করেন। বেপরোয়া আচরণের জন্য তিনি রুমেন্টের শাস্তিও দাবি করেন।
জেলা রেজিস্ট্রার মীর মাহবুব মেহেদি বলেন, ইনডেক্স বইয়ে দলিলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। দলিল লেখার সনদ না থাকলে এই বই কাউকে দেয়া যায় না। এতে বই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বইয়ের পাতা ছেঁড়া বা টেম্পারিং এড়াতে সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। আর এ কারণেই রুমেন্ট ক্ষিপ্ত হয়ে লুৎফারের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে গতরাতে অভিযুক্ত শফিউর রহমান রুমেন্টের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কয়েকদফা ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রুমেন্টের ব্যাপারে সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মহিদুল ইসলাম বলেন, রুমেন্ট একজন অসৎ প্রকৃতির মানুষ। এ জন্য তাকে সমিতি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তার সনদও স্থগিত আছে। কিন্তু এরপরেও তিনি অবৈধভাবে দলিল লেখার কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, রেকর্ড রুমে দলিল লেখক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। কিন্তু গায়ের জোরে কিছু ‘টাউট’ সেখানে প্রবেশ করে। তারা অফিসের সামনে বসে থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের কাছ থেকে কৌশলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে রেকর্ড রুমের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ