বাঁশের ডালা তৈরি করে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টায় শাহাপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২১, ৫:০৩ অপরাহ্ণ


আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)


রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দূরে বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার শাহাপুর গ্রাম। এই গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবার বাঁশের ডালা তৈরির মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন। এ গ্রামের অল্প শিক্ষিত নারী-পুরুষ বাঁশ, কঞ্চি, দঁড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ডালা তৈরির কাজ করেন।
শাহাপুর গ্রামের ইনতাজ আলী (৪৫) ডালা তৈরি করে প্রতি মাসে আয় করেন সাড়ে আট হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। পাশাপাশি স্ত্রী রাবেয়া বেগম ডালা তৈরিতে কাজের সহযোগিতা করেন। মাসে যা রোজগার করেন চার সদস্যের সংসারের খরচ করে আর কোনো উদ্বৃত্ত থাকেনা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে ওই কাজে যুক্ত হন তার স্ত্রী।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আমিনুল ইসলাম, হযরত আলী, সাধন প্রবীর উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, ছহির হোসেন, পচা হোসেন, মিন্টু ইসলাম। ইনতাজ আলীর সম্বল বলতে বাবার দেয়া ১৫ শতাংশ ভিটেটুকু। এছাড়া কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই। দিনমজুর স্বামীর রোজগারে সংসার না চলায় রাবেয়া বেগম (৪০) এখন ডালা তৈরির কাজে সহযোগিতা করছেন।

এদিকে জাহিদুল ইসলামের চার সদস্যের পরিবার। বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম ও ছোট ছেলে আকাশ হোসেন পড়ালেখা করছে। তার সংসারে আয়ের উৎস ডালা তৈরি করা। এক সময় দিনমজুরে একার আয়ে সংসার চলছিল না। সংসারে সচ্ছলতা আনতে আংরা বেগম ডালা তৈরির কাজ সহযোগিতা করে। বর্তমানে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে আসলেও অথনৈতিক কষ্টে থাকেন।

৬৫ বছরের বৃদ্ধ হযরত আলী জানান, একটি ডালা তৈরি করলে মজুরি দিতে হয় ৬০-৭০ টাকা। একজন শ্রমিক প্রতিদিন তিন থেকে চারটি ডালা তৈরি করতে পারেন। এতে একজন শ্রমিক ২০০-২৫০ টাকা রোজগার করতে পারে। ডালা তৈরিতে সংসারের সচ্ছলতা ফিরে এনেছে এই গ্রামের শতাধিক পরিবার। তিনি সুদমুক্ত ঋণের দাবি জানান।
একই গ্রামের চয়েন উদ্দিন জানান, সম্পত্তি বলতে বসত ভিটা ছাড়া আবাদযোগ্য জমি নেই। ডালা তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে। তবে আগের তুলনায় সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। আমার সাত ছেলে সবাই আলাদা হয়ে গেছে। আমি শেষ বয়সে এসেও যা আয় করি সংসার ভালোভাবে চলে।

এখন দিনে দিনে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
আড়ানী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড (শাহাপুর মহল্লা)’র কাউন্সিলার আবদুল হাকিম টুটুল জানান, এ গ্রামের মানুষ ডালা তৈরি করে সুন্দরভাবে দিন যাবন করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে তাদের সংসারে কোনো অভাব না থাকলেও অর্থনৈতিক দৈন্যতার মধ্যে থাকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ