বাঁশের সাঁকোয় বড়াল নদ পারাপার বাগাতিপাড়ায় জামনগর-গোচর ঘাটে ব্রিজের অভাবে জনদুর্ভোগ

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২১, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ

খাদেমুল ইসলাম, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার একটি গ্রামের নাম জামনগর। পাশেই রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভার গোচর গ্রাম। এ দুটি গ্রামের বুক চিরে বয়ে চলেছে পদ্মার শাখা নদ বড়াল। নদটি জামনগর গ্রাম দিয়েই প্রবেশ করেছে বাগাতিপাড়া উপজেলায়। জামনগর গ্রামের আশপাশে আরো কয়েকটি গ্রাম বাঁশবাড়িয়া, কালিকাপুর, দোবিলা, মুন্সিপাড়া, কৈচরপাড়া, করমদশি, ভিতরভাগ, মাঝপাড়া, গৈলারঘোপ। উপজেলার জামনগর ইউনিয়নসহ আশপাশের গ্রাম গুলিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসতি। শিক্ষার আলো অনেক আগেই এ গ্রামে পৌঁছে গেছে। নদী বিধৌত এ গ্রামটি সবজি চাষে বিখ্যাত। এলাকার মাটি আর পরিবেশ অনুকুলে থাকায় এসব গ্রামে বেগুন, পটল, আলু, করলা, শিম, মুলা, গাজর, টমেটো, বরবটি, মসলাজাতীয় ফসল মরিচ, হলুদ, পিয়াজ, রসুন, আদা, ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচু, বরই, পেয়ারার চাষ হয়ে থাকে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব কৃষিপন্য বিক্রি হয়। উপজেলা সদর থেকে ১৫ কি: মি: দূরে এ গ্রামটি হওয়াই এসব কৃষিপন্য খুব কম দামে নিজ বাজারে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়।
এদিকে রাজশাহীর বাঘার আড়ানী একটি বিখ্যাত হাট। যা জামনগর গ্রাম থেকে মাত্র দেড় কি: মি: দূরে। আড়ানী হাট থেকেই ব্যবসায়ীরা ট্রাকে ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য স্থানে এসব কৃষিপণ্য নিয়ে যায়। কিন্তু এই দুটি গ্রামের প্রধান অন্তরায় বড়াল নদ। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোয় নদ পারপার হয়ে আড়ানীর হাটসহ বাঘা উপজেলা সদরে যেতে হয় এ এলাকার মানুষদের। এছাড়া অন্যপথে দেড় কিলোমিটার পথ ৭-৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। মালামাল পারাপারের সময় প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হন। এমনকি শুকনো মওসুমে নৌকা চলাচলের সময় সাঁকো পারাপারের সময় বাঁশের মাচা তুলে পার করতে হয়। অথচ একটি ব্রিজ বদলে দিতে পারে ওই ১০টি গ্রামের মানুষের ভাগ্যের চাকা। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পূর্বে এলাকা বাসির দাবির মুখে ব্রিজটি করার প্রতিশ্রুতি দেন। ক্ষমতায়নের পর কেউতা বাস্তবায়ন করেন না। কালিকাপুর গ্রামের প্রভাষক আলমগীর হোসেন জানান, বর্ষাকালে ছাত্র-ছাত্রীদের নৌকায় অনেক কষ্টে পার হতে হয়। অন্য সময়ে বাঁশের সাঁকো তাদের ভরসা। জামনগর গ্রামের মাহাতাব, সেলিম, মোশাররফ জানান, ব্রিজের অভাবে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারছেন না। এ দিকে স্থানীয়রা জানান, প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বেশ কয়েক বার মাপজোঁক নিলেও পরে আর কোনো খবর নাই। কৃষকদের কৃষিপণ্য সঠিকভাবে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে এবং সাধারণ মানু সহ ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বড়াল নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী। এব্যাপারে স্থানীয় জামনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বলেন, অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জামনগর-গোচর ঘাটে ব্রিজটি স্থাপন করা প্রয়োজন। বিষয়টি একাধিকবার তিনি স্থানীয় প্রকৌশল অফিসে দাবি তুলেছেন। এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।