বাংলাদেশকে হিলারির চাপের ঘটনা তদন্ত ।। সিনেট কমিটিকে স্বাগত জানাই

আপডেট: জুন ৫, ২০১৭, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত আটকাতে হিলারি ক্লিনটন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের প্রভাব খাটিয়েছিলেন কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সিনেট কমিটি।
সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি এই বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর চেয়ে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সিনেট কমিটির এ উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও মুখপাত্র মাহবুব আলম সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেছেন, আমি মনে করি, এই তদন্ত তুলনামূলকভাবে কম উন্নত একটি রাষ্ট্রের ওপর কোন শক্তিশালী রাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা রোধে সহায়ক হবে।’
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ মিশন প্রধান জন ডানিলোভিচকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে চেয়েছে সিনেট কমিটি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করে আসছিলেন, তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাপে রাখতে এবং ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত আটকাতে হিলারির কর্মকর্তারা তাকেও হুমকি দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অভিযোগ করেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসকে সরানোর পর নিয়মিত ‘থ্রেট’ করত যুক্তরাষ্ট্র।
বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০১১ সালে ইউনূসকে যখন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরানো হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হিলারি ক্লিনটন; যিনি এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হেরে যান। নোবেলজয়ী বাংলাদেশি ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের পারিবারিক বন্ধু; ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে ইউনূসের লাখ ডলার তহবিল জোগানোর পাশাপাশি ইউনূসকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের তহবিল জোগাতে হিলারির প্রভাব খাটানোর অভিযোগও যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে এসেছে।
ওই সময় সরকারের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল তা শুধু সরকারের উচ্চ মহল থেকেই বলা হচ্ছিল শুধু তা-ই নয়Ñ দেশের মানুষও বিষয়টি আঁচ করছিল। ড. ইউনূসের অনেক ঘটনার ক্ষেত্রেই তাঁর অসহিষ্ণুতা দেশের মানুষ লক্ষ্য করেছে। তিনি পদ্মা সেতু তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন- সে অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আছে। মার্কিন সিনেটের তদন্তের সিদ্ধান্ত পদ্মা সেতু নিয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগকে নতুন মাত্রা দিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বান্তক্রমে ওই সময়ের মার্কিন প্রশাসনের চাপকে অগ্রাহ্য করেছেন। এতে করে দেশের মর্যাদা, সম্মান ও গৌরব অক্ষুণ্ন থেকেছে। কিন্তু ড. ইউনূস যিনি শান্তি নোবেল বিজয়ী তিনি কেন এ ধরনের ন্যক্কারজনক কার্যক্রমের মধ্যে জড়ালেন? তাঁর নোবেল বিজয় দেশের মানুষকে সম্মানিত করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এতে দেশের মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়েছিল কিন্তু তাঁর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দেশের মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। ওয়ান এলেভেনের সময় দেশের রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত বিতর্কিত ঘটনা ছিলÑ যদিও তিনি পরে তাঁর অবস্থান থেকে সরেছিলেন।
মার্কিন সিনেট কমিটির কমিটির সিদ্ধান্তকে আমরাও স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নকামী দেশকে চাপের মধ্যে রাখা কতটুকু নৈতিক হয়েছে নিশ্চয় তা কমিটি খতিয়ে দেখবেন। একই সাথে ওই সময়ের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ড. ইউনূসের সমর্থনে সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে চাপ সৃষ্টির বিষয়টিও খোলাসা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ