আজ বিজয়ের দিন

আপডেট: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালির বিজয়ের ৫২ বছর পূর্তি হল। জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরগাথার এক অবিস্মরণীয় দিন। বিশ্ব ইতিহাসে বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন আজ। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের এক স্বাধীন দেশের অভ্যুদয়ের দিন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নয়মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকবাহিনী দীর্ঘ ৯ মাস ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে- সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে ১ রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্ল¬ানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে।

বিজয় দিবস উদযাপনে এখনো অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ আছে, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের অঙ্গীকারও আছে। এই বাংলাদেশ আজ গর্বিত ও স্পর্ধিত মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ও চেতনার পথ ধরে এগোচ্ছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরা খুবই চঞ্চল, রক্তচক্ষু মেলে আছে। সুযোগ পেলেই জাতির অস্তিত্বে তিক্ষè নখর বসিয়ে দিতে কুণ্ঠিত হবে না। দেশের মানুষ সোচ্চারÑউগ্র মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে। তদুপরি নানাভাবে. নানা উপায়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি আশ্রয়-প্রশ্রয় লাভ করছে। এবারের বিজয় দিবেসের অঙ্গীকার হোক স্বাধীনতার বিরুদ্ধের স্বৈরাচারী, আগুন সন্ত্রাসী এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখবার, নির্মূল করবার। অঙ্গীকার হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার।

বিজয় দিবস সরকারি ছুটির দিন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে। রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় করা হয়েছে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সংবাদপত্র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে, বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘যার যা কিছু আছে’ তা নিয়েই স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ পরে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

ওই ঘোষণার মর্মবাণী এবং এই নির্দেশের তাৎপর্য বাঙালি জাতির কাছে অস্পষ্ট ছিল না। সে কারণেই ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হামলার সাথে সাথেই সমগ্র জাতি একযোগে দুর্জয় প্রতিরোধ সংগ্রামের সূচনা করে। তারই ফলশ্রুতিতে জাতি ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করে। এর জন্য ৩০ লক্ষ লোককে জীবন দিতে হয়েছে। সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে অসংখ্য মা-বোনকে।

এই স্বাধীনতা বাঙালিদের জাতীয় পরিচয় সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং স্বনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একটি আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা গড়তে সময় লাগছে বটে। কিন্তু জাতির রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের ক্ষেত্রে জাতির দুর্মর সংগ্রাম অব্যাহত আছে। নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়েই এই ধারা এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগোনো অব্যাহত রাখতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে অপ্রতিরোধ্য হতে হবে। গণমানুষের এই প্রতিজ্ঞাই আজ খুব জরুরি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ