বাংলাদেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার

আপডেট: জুন ২৩, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

মো. আবদুল কুদ্দুস


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
স্থানীয় সরকার উন্নয়ন
খাত    ২০০১-০৬    ২০০৯-১৬
বার্ষিকক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ    ১১,২৭৩ কোটি টাকা (২০০৬)    ৪৪,০৭৪ কোটি টাকা
নতুন প্রকল্প অনুমোদন    ৪৬টি    ১৭৮ টি
উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ    ১১টি    ৬৩টি
ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ    ৭৮৫টি    ১,০২৩টি
গ্রোথ সেন্টার/হাটবাজার উন্নয়ন    ৬৪১টি    ১,৬৮৯টি
সাইক্লোন শেল্টাার নির্মাণ/পুননির্মাণ    ২০টি    ১,২১৪টি
রাস্তা এবং ব্রিজ/কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ    ১,২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৫৩৩ কিমি রাস্তা এবং ৯০,৪২৪ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ    ৬,৯৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৫৩৩ কিমি রাস্তা এবং ১,১৩,৮৪৮ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ
বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা    ৭,৭৫১ কিমি    ২৪,৫১৭ কিমি
সেচ এলাকার উন্নয়ন    পানিসম্পদ উপ-প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৬,১৬১ হেক্টর সেচ এলাকার উন্নয়ন করা হেয়েছে    পানি সম্পদ উপ-প্রকল্পের মাধ্যমে ৫,৯৯,৯৫৭ হেক্টর সেচ এলাকার উন্নয়ন করা হয়েছে
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের ২৩টি মন্ত্রণালয়/ বিভাগের অধীনে মোট ১৪৩টি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প/ কর্মসূচি বাস্তবায়নাধীন ছিলো। এ সমস্ত কর্মসূচি/প্রকল্পে ৩৫ হাজার কোটি টাকারও অধিক বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা হয়, যা দেশের মোট বাজেটের প্রায় ৯.৫০ শতাংশ এবং জিডিপির ১.৪৬ শতাংশ।
খাত    ২০০৬    ২০০৯    ২০১৬
মোট প্রকল্পের সংখ্যা    ১১    –    ১৪৩
মোট বাজেট বরাদ্দ    ৯২১ কোটি টাকা    ১৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা (২০০৯-১০)    ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বয়স্কভাতা (প্রতিজনে)    ২০০ টাকা(২০০৬-২০০৭)    ২৫০(২০০৮-০৯)    ৪০০
বয়স্কভাতা বরাদ্দ    ৩৮৪ কোটি াকা (২০০৬-০৭)    ৬০০ কোটি টাকা (২০০৮-২০০৯)    ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা(২০১৫-২০১৬)
অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা (প্রতিজনে)    ২০০ টাকা(২০০৬-২০০৭)    ২৫০(২০০৮-২০০৯)    ৫০০ টাকা(২০১৫-২০১৬)
অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতায় বরাদ্দ    ৩৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা(২০০৬-০৭)    ৬০ কোটি    ২৪০ কোটি টাকা(২০১৪-১৫)
বিধবা ভাতা (প্রতিজনে)    ২০০ টাকা (২০০৬-২০০৭)    ২৫০ টাকা (২০০৮-০৯)    ৪০০টাকা(২০১৪-২০১৫)
বিধবা ভাতায় বরাদ্দ    ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা (২০০৬-২০০৭)    ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা (২০০৮-০৯)    ৪ হাজার ৮৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা(২০১৪-২০১৫)
মুক্তিযোদ্ধা ভাতার হার    ৫০০ টাকা (২০০৬-০৭)    ৯০০ টাকা (২০০৮-২০০৯)    ১০ হাজার টাকা(২০১৫-২০১৬)

    হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ‘হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৩০০ জনকে ৩০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তাও দেয়া হয়।
    ১০ টাকা কেজি দরে দেশের ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষকে বছরে ৫ মাস ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করার যুগান্তকারী কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় কার্যক্রম
কার্যক্রম    ২০০১-০৮    ২০১০-১৬
পরিবেশ দুষণের দায়ে ক্ষতিপূরণ আদায়    –    ১৩৪ কোটি ৫০ হাজার টাকা
এনফোর্সমেন্ট অভিযানভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা    –    ২২০০টি
অবৈধ ইটভাটা বিরোধী অভিযান    –    ৪৭০টি
পাহাড় কাটার অভিযোগে ক্ষতিপূরণ আদায়    –    ৪ কোটি ৬২ লাখ
নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিং শপিং ব্যাগ বিরোধী অভিযানে আদায়কৃত জরিমানা    ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা    ৬ কোটি ১৩ লাখ
শিল্প বর্জ্যে নদী দুষণের দায়ে ক্ষতিপূরণ আদায়    –    ৯৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা
নদী জলাশয়ের ভরাটের দায়ে ক্ষতিপূরণ আদায়    –    ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা
শব্দ দূষণের দায়ে ক্ষতিপূরণ আদায়    –    ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা
ইটিপিযুক্ত শিল্প-কারখানার সংখ্যা    ২৩৭াট    ১১৫৬টি

    জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রথম উন্নয়নশীল দেশে হিসেবে বাংলাদেশ প্রণয়ন করে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকবিলা কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা-২০০৯’।
    ২০২০ সাল নাগাদ ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ নাবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়
বিগত ৭ বছরে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম-
    পবিত্র আল কোরআন শরিফ ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তর করা হয়েছে ও ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন করা হয়েছে।
    ২০০৯ সাল থেকে প্রতি রমজান মাসে সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ লোককে পবিত্র কোরআন শিক্ষা প্রদান করা হয়।
    ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে ইতোমধ্যে ৯ হাজার ১০৩ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে সুদমুক্ত ঋণ ও আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
    বাংলাদেশে প্রায় ৩ লাখ মসজিদের ইমামগণকে দীনি শিক্ষার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক এমন নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
    ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বই, মতবিনিময় সভা, সেমিনারে মাধ্যমে বিতরণ ও ফিল্ম ডকুমেন্টারি তৈরী করা হয়।
    দেশের ৫ টি প্রতিটি জেলায় ৩০৩ লাখ টাকা ব্যায়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
    ২০১৬ সালে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজাম-পে দুর্গপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছ্ েসারাদেশে ২৯ হাজার ৩২০টি পূজাম-পে শান্তিপূর্ণ পূজা সম্পন্ন হয়েছে।
    জাতীয় হিফজ. কিরাত ও তাফসির প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক হাফেজ ও ক্বারীগণকে বিদেশে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
বিশিষ্ট উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ রাবার্ট চেম্বার্স উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেগুলো হলো- অঙ্গীকার, ধারাবাহিতকা ও অপরিবর্তনীয়তা। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এ তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার পরিবর্তনের অঙ্গীকার ও ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার করেছে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়ে দেশরতœ শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
তথ্যসূত্র:
(বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্রনামক প্রচার ও প্রকাশনা-২০১৭ থেকে অনুলিখন ও সংযোজন।)
লেখক: শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী