বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও বাস্তবতা

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ

মো. ওসমান গনি

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

প্রাথমিক শিক্ষা একটি ইধংরপ বফঁপধঃরড়হ বা মৌলিক শিক্ষা এই শিক্ষার উপর ভিত্তি করে শিক্ষার অন্যান্য স্তর নির্ভর করে। তাই সবার আগে প্রাথমিক শিক্ষার উপর জোর দেয়া উচিত। অথচ উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা অনেক পিছিয়ে যেমন- জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি আমাদের প্রতিবেশী সার্কভুক্ত রাষ্ট্র মালদ্বীপ ও শ্রীলংকার প্রাথমিক শিক্ষার হার শতভাগ। সেখানে আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা এখনো অনেক পিছিয়ে। উন্নত দেশগুলো জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ প্রাথমিক শিক্ষাসহ অন্যান্য শিক্ষা খাতে ব্যয় করে। সেখানে আমাদের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে ব্যয় দিন দিন কমে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত দঃখজনক বিষয়। তবে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট জাতীয় বাজেটের ১৪.৬৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছেÑ যা অন্যান্য অর্থ বছরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ আগে উপজেলা পর্যায়ে হতো। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০% নারী এবং ৪০% পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। নারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচএসসি পাশ শিক্ষাগত যোগ্যতা বর্তমানে নির্ধারণ করা হয়। আর পুরুষ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিএ পাশ শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। আমার এখানে প্রশ্ন হলো? একজন এইচএসসি পাশের নারী শিক্ষক আর একজন বিএ পাশ পুরুষ শিক্ষক কি সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে? অবশ্যই উত্তর হবে না, তবে কেন উভয়ের বেতন কাঠামো একই হয়? এটা আমার কাছে অত্যন্ত একটি দুঃখজনক বিষয়। যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পাশ শিক্ষাগত যোগ্যতায় নারী নির্ধারণ করা হয়েছিলো তখন আমাদের দেশে নারী শিক্ষার হার তুলনামূলক কম ছিলো এবং আমাদের দেশের নারীরা অত্যন্ত অবহেলিত ছিলো। তাই তাদেরকে উন্নয়নের মূল ¯্রােতধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছিলÑ যা আমাদের সংবিধানের দ্বারা স্বীকৃত। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(৪) নং ধারায় উল্লেখ আছে রাষ্ট্র, নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা পায়। এ ছাড়া নারী শিক্ষকেরা মাতৃ¯েœহ দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেন। যার ফলে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে মায়ের কাছ থেকে যে আদর, সোহাগ, মায়া, মমতা, ¯েœহ, ভালোবাাসা পায় তা একজন নারী শিক্ষক দিতে পারে। একজন নারী শিক্ষক যেভাবে একজন শিক্ষার্থীকে যত তাড়াতাড়ি আপন করে নিতে পারে একজন পুরুষ শিক্ষকের পক্ষে তা প্রায় অসম্ভব। তবে আশার কথা হলো যে, বর্তমানে আমাদের দেশে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমার মতামত হলো, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারী শিক্ষকের সমান যোগ্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন অর্থাৎ উভয়ের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাশ হত্তয়া উচিত। যখন বিএ পাশ শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে তখন বেতন কাঠামোতেও পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পাশ থেকে মাস্টার্স পাশ পর্যন্ত শিক্ষক আছেন। এর ফলে মিশ্র শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য শিক্ষকদের মন মানসিকতায়  ভিন্নতা দেখা যায়, এতে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব পড়ে।
শিক্ষকদের শ্রেণি পঠন-পাঠন কার্যক্রমে আধুনিক শিক্ষা উপযোগী ধ্যান-ধারণা অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে। বর্তমানে আধুনিক বিশ্বের সাথে সমান তালে চলার জন্য যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষা উপকরণ তৈরি, মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস করলে পাঠের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের কাছে অতিসহজ, চিত্তাকর্ষণ ও মনোযোগ আকর্ষণ করবে। এই জন্য শিক্ষকদের শ্রেণি পাঠদানের ব্যাপারে আরও আন্তরিক হতে হবে। শিক্ষকদের কারিকুলাম, শিক্ষার লক্ষ্য, শিক্ষার উদ্দেশ্য ও শিখনফল সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট পাঠে কী শিক্ষা দিতে চাচ্ছেন আগে থেকে শিখনফল নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতে হবে এবং শিক্ষার মাধ্যমে শিখনফল অর্জিত হয়েছে কিনা তা অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।
আমাদের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো এখনো উন্নত নয়। কোন কোন বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নেই, পানীয় জলের সু-ব্যবস্থা নেই। খেলাধুলার জন্য নেই মাঠ। শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাংস্কৃতিক চর্চার তেমন সুযোগ নেই। খুব কম সংখ্যক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা হয়। সাংস্কৃতিক চর্চা হলে শিশুদের মধ্যে ভয় জড়তা দূর হয়। পরবর্তী জীবনে শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে খুব তাড়াতাড়ি ঘনিষ্ঠ হতে পারে। সংস্কৃতির চর্চা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। এ ব্যাপারে শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের সজাগ হওয়া উচিত। যদিও প্রতিবছর স্কুল, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে আন্তঃ প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শুধুমাত্র এই প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবস যেমন- বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবস ও জাতীয় শিশু দিবসে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি উপকৃত হবে যা ভবিষ্যৎ জীবনে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করবে।
বর্তমান সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেক অবদান রেখেছে তার মধ্যে একটি অন্যতম অবদান হলো বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলোয়াড়দের সাফল্য আমরা কিছু দিন আগে হয়ে যওয়া এএফসি অনূর্ধব-১৬ নারী ফুটবল দলে দেখেছি। যে সমস্ত মেয়েরা এএফসি অনূর্ধব-১৬ নারী ফুটবল দলের খেলায় অংশগ্রহণ করেছে তারা সবাই এক সময় বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলোয়াড় ছিলো। আজ তারা এএফসি অনূর্ধব-১৬ নারী ফুটবল দলে খেলে বিশাল ব্যবধানে ইরান, সিঙ্গাপুর, কিরকিস্তান, চিনা তাইপো ও আরব আমিরাতকে হারিয়েছে। এই খেলোয়াড়রা ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার প্রত্যন্ত কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার খর্দ্দকৌড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আজ বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব এই মেয়েদের খেলা দেখে ধন্য ধন্য করেছে, সবাই অবাক হয়ে গেছে। এই মেয়েদের জাতি হাজার বছর স্মরণ করবে। এএফসি অনূর্ধব-১৬ মেয়েদের কথা বাংলাদেশের সবার মুখে মুখে বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের স্বপ্ন দ্রষ্ট ও রূপকার বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁকে সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এমন একটি মহৎ ও সুন্দর উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। যেখানে আগে আমাদের দেশের মেয়েরা ফুটবল খেলায় চরমভাবে পরাজিত হতো। সেখানে বিশ্বের নামি দামি দেশের খেলোয়াড়দের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আমরা আজ জয়ী। সত্যিই এটি একটি আনন্দের বিষয় যা বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট যদি না হতো তাহলে হয়তো আজ আমরা এএফসি অনূর্ধব-১৬ ফুটবল দলে জয়ী হতে পারতাম না।
বর্তমান সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য অনেক অবদান রেখেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিলো ২য় শ্রেণির মর্যাদা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা পেলেও কোন অদৃশ্য কারণে প্রধান শিক্ষকগণ দ্বিতীয় শ্রেণির বেতন কাঠামো আজ পর্যন্ত পাননি তা আমার জানা নেই। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির বেতন কাঠামো দেয়ার জন্য। আগে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে সহকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ছিলো। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর ব্যবধান তিন ধাপ নিচে। এর ফলে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। এই বেতন বৈষম্যের সমাধান খুব দ্রুত করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন যাবত সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ। এর জন্য সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিদিন খববের কাগজে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকদের পদ শূন্য থাকার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে তাই প্রধান শিক্ষক পদে খুব শিগগির পদোন্নতির মাধ্যমে ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া আশু প্রয়োজন। সহকারী শিক্ষক থেকে সহকারী পরিচালক পর্যন্ত যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে সরকার ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী চালু হওয়ার পর প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি বেশি মনোযোগী হয়েছে। ফলাফল ভালো করার জন্য বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার প্রতি বছর ১ জানুয়ারি বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই উপহার দিচ্ছে। ১ জানুয়ারি সরকার সারাদেশে বই উৎসব পালন করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলমূখি করার জন্য এবং ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে জানার জন্য ১ জুলাই ২০১৫ সাল থেকে শতভাগ উপবৃত্তি চালু করেছে। এটি নিঃসন্দেহে বর্তমান সরকারের একটি সফল উদ্যোগ। শতভাগ উপবৃত্তি চালুর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান ও শিক্ষার্থীর হার উভয় বৃদ্ধি পাবে। যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষার উপর ভিত্তি করে শিক্ষার পরবর্তী ধাপগুলো সুচারুভাবে সম্পাদিত হয়। তাই প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সবচেয়ে সরকারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক যুগোপযোগী বিজ্ঞান ও বাস্তবসম্মত প্রায়োগিক শিক্ষা চালু করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ তাহলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একটি আদর্শ জাতি হিসেবে গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে তখন নিজস্ব আসন করে নিতে পারবে। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও শোষণহীন সোনার বাংলা।
লেখক : সহকারী শিক্ষক, মচমইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগমারা, রাজশাহী।