বাংলাদেশের ফুটবলে এক ইংলিশের জাদুর ছোঁয়া

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৯, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশের ফুটবল কোচ জেমি ডে। তার অধীনেই উন্নতির ছোঁয়া বাংলাদেশের ফুটবলে-সংগৃহীত

২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর। ভুটানের মতো দলের বিপক্ষে ৩-১ গোলের হারে ‘অন্ধকার’ যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশের ফুটবল। আশার সঙ্গে এমনিতেই প্রাপ্তিতে ছিল বিস্তর ফাঁরাক, তার ওপর এই হার বাংলাদেশের ফুটবলের ভিতকে দেয় নাড়িয়ে। ব্যর্থতার তলানিতে ঠেকা ওই দলই এখন সমীহ জাগানো। আর এসবের পেছনে কাজ করেছে জেমি ডে’র ফুটবল মেধা।
ইংলিশ কোচের অধীনে এই বাংলাদেশকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধেন কোটি ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কাতারের বিপক্ষে ঘরের মাঠের পারফরম্যান্স কিংবা ভারতের মাটিতে গিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করার মানসিকতা অন্য বাংলাদেশের ইঙ্গিত দেয়। মাঠে নামার আগে অন্তত হারের মানসিকতা না থাকা দলটির নেপথ্যে এই জেমিই।
২০১৮ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন অচেনা এক ইংলিশ কোচ। যার ছিল শুধুমাত্র নিজ দেশে পঞ্চম স্তরের ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা। রীতিমতো ‘ঝুঁকি’ নিয়ে তার হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দেয় বাফুফে। ঝুঁকি নিয়েও যে অনেক সময় সাফল্য পাওয়া যায়, তার জ্বলন্ত প্রমাণ জেমির সামর্থ্য।
এখন পর্যন্ত তার অধীনে ১৫ ম্যাচ খেলেছে জামাল ভূঁইয়ারা। যেখানে ৭ জয় ও ২ ড্রয়ের বিপরীতে ৬ ম্যাচে হার দেখেছে বাংলাদেশ। জেমির অধীনে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হার দিয়ে। এরপর একটু একটু করে দল গুছিয়ে নিয়ে চমক দেখিয়েছেন। যার সর্বশেষ ভারতের মাটি থেকে ১-১ গোলে ড্র করে ফেরা। শুরুতে এগিয়ে গিয়ে জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। শেষ পর্যন্ত জয় না পেলেও ড্র করেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের স্বপ্ন বাড়িয়ে দিয়েছে জেমির শিষ্যরা।
শুধু যে জাতীয় দল নিয়ে কাজ করছেন, তা কিন্তু নয়। অনূর্ধ্ব-২৩ দলেও সাফল্য এসেছে জেমির হাত ধরে। এশিয়াড ফুটবলে প্রথমবার দ্বিতীয় পর্বে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের ৪০ বছর বয়সী এই কোচের ছোঁয়ায়। যার পরশে জামাল-জীবনদের পারফরম্যান্সে এসেছে আমূল পরিবর্তন।
তার জাদুর ছোঁয়ায় বাংলাদেশের ফুটবলে উন্নতির গ্রাফ উঁচুতে উঠলেও জেমি কিন্তু সবসময় কৃতিত্বটা দেন খেলোয়াড়দের। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে একবার সাফল্যের রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে বলেছিলেন, “খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে নেওয়ার চেষ্টা করি সবসময়, যেন ৯০ মিনিট তারা একই গতিতে খেলতে পারে। এখানে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। দলকে সামনের দিকে নেওয়াটাই আমার কাজ। আর বড় দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের উত্তেজনা ডাগ আউটে আমি বেশ উপভোগ করি। খেলোয়াড়দেরও বলি, ‘তোমরা শুধু ম্যাচটি উপভোগ করো, কোনও চাপ নেওয়ার দরকার নেই।”
কোচ তো বটেই, জেমি মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের কাছে বন্ধুর মতোও। যখন যেখানে যা দরকার, সেটাই করে থাকেন তিনি। কখনও শিক্ষক হিসেবে, কখনও আবার বন্ধু হিসেবে জামাল-সাদদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে যান। কোচের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক খেলোয়াড়দের ভালো করার পথে কতটা অবদান রাখে, সেটা বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন জামাল-সুফিলরা।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের তিন ম্যাচে পাওয়া গেছে দুর্দান্ত এক বাংলাদেশকে। নতুন উদ্যোমে লড়াই করার মানসিকতার যে দলটি স্বপ্ন দেখাচ্ছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে। যে স্বপ্নের বীজ একটু একটু করে বাড়ছে এক ইংলিশের ছোঁয়ায়!