বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটাই গিলক্রিস্টের সেরা

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০১৭, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ফতুল্লা টেস্টের সেই সেঞ্চুরির পর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট

টেস্ট ক্রিকেটে খেলেছেন ৯৬ ম্যাচ, যাতে সেঞ্চুরি আছে তার ১৭টি। ডাবল সেঞ্চুরিও নামের পাশে যোগ করেছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোনানেসবার্গে খেলা হার না মানা ২০৪ রানের ইনিংসটা স্মৃতির মণিকোঠায় সাজানো সাবেক এই উইকেটরক্ষকের। তবে সেরা সেঞ্চুরির জায়গাটা গিলক্রিস্ট রেখেছেন অন্য একটি ইনিংসের জন্য। যেটা ২০০৬ সালে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে।
টেস্ট অঙ্গনে ছয় বছর কেটে গেলেও বাংলাদেশকে রীতিমত সংগ্রাম করতে হতো প্রতিপক্ষদের সামনে। জয় তো দূরের ব্যাপার, হারের ব্যবধান কতটা কমানো যায়, বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকতো সেটাই। ২০০৬ সালে ওই বাংলাদেশের বিপক্ষেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় শক্তিধর অস্ট্রেলিয়ার। ফতুল্লায় প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত সম্মানজনক স্কোর দাঁড় করাতে পেরেছিল তারা গিলক্রিস্টের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে। ৯৩ রানে ৬ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২৬৯ পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন ‘গিলি’ ১৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে।
ওই সিরিজের এক যুগেরও বেশি সময় পর আবার যখন অস্ট্রেলিয়া আসছে বাংলাদেশ সফরে, তখন গিলক্রিস্টের চোখে টাটকা স্মৃতি হয়ে হয়ে ধরা দিয়েছে ফতুল্লায় ইনিংসটি। এ বছরের শুরুর দিকে এক রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এই উইকেটরক্ষক বলেছেন, “সেবারের গ্রীষ্মে আমরা ব্যস্ত সূচি পার করেছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কঠিন সময় কাটাতে হয়েছিল আমাদের। এরপর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আমরা বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, ‘আমরা সহজেই উতরে যাব, তারা (বাংলাদেশ) পাত্তাই পাবে না।”
কিন্তু হয়েছিল উল্টোটা। ফতুল্লার প্রথম টেস্টেই অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। শাহরিয়ার নাফীসের (১৩৮) সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা স্কোরে জমা করে ৪২৭ রান। জবাবে মোহাম্মদ রফিকের ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। ৯৩ রানে ৬ ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর বড় লজ্জার মুখে পড়লেও সেটা হতে দেন নি গিলক্রিস্ট। ছয় নম্বরে নেমে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন সেঞ্চুরি। অমন ধীর গতির ব্যাটিং কখনও করেন নি তিনি, গিলক্রিস্ট নিজেই স্বীকার করেছেন তা। ধৈর্যের পরীক্ষার সঙ্গে লড়াকু ব্যাটিংয়ে ওই সেঞ্চুরিই তাই তার কাছে সেরা, ‘লোয়ার অর্ডারে বেশ কয়েকজন সঙ্গী পেয়েছিলাম, তাদের সাহায্যে আমি পাই সেঞ্চুরির দেখা। আর এটা ছিল আমার সবচেয়ে ধীরগতির লড়াকু সেঞ্চুরি। আমার ক্যারিয়ারের সেরা।’ ক্রিকেট ডটকম, বিডিনিউজ