বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ডার্ক ওয়েব উদ্বেগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

এ.এস.এম. শাহরিয়ার জাহান, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ:


বাংলাদেশ ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্স রেসপন্স টিম (সার্ট) তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে যে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের যেসব ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড আছে তাদের অনেকেরই তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে গেছে। তবে এভাবে তথ্য ফাঁসের জন্য তারা ব্যাংক খাতের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রাহকের অবহেলাকেও উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সার্টের প্রজেক্ট ডিরেক্টর তারিক এম বরকত উল্লাহ বলেন, ব্যাংকের নেটওয়ার্কিং দুর্বলতা ও নিম্নমানের ডিভাইস ব্যবহারের কারণেই ডার্ক ওয়েবে অনেক গ্রাহকের তথ্য গেছে। সেকারণে গ্রাহকদের সচেতন হবে অনেক বেশি। কোভিডের কারণে ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু কার্ড ইস্যুকারী অনেক ব্যাংকের নেটওয়ার্কিং সিস্টেম ম্যালওয়ার ও র‌্যানসামওয়ারে ভর্তি। অন্যদিকে ডেবিট কার্ড পার্সোনাল ব্যাংক একাউন্টের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে, এগুলোর তথ্যই বেশি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।
ডার্ক ওয়েব আসলে কী? ডার্ক ওয়েব হলো এক কথায় ‘ই কমার্স অফ ক্রিমিনালস’ বা সাইবার অপরাধীদের ভাড়া করার একটি হাব। অর্থাৎ ডার্ক ওয়েব হলো ইন্টারনেটের একটি অন্ধকার জগত এবং এসব সাইটগুলোতে মুখোশ পরা অপরাধীরা বিচরণ করে। এসব অপরাধীরা হ্যাকিং ছাড়াও সন্ত্রাসী কর্মকা- ও পর্ণগ্রাফীর মতো অনেক কিছুর সাথে জড়িত। একইভাবে কাজ করে ডার্কনেট মার্কেট যেখানে অবৈধ পণ্যের বেচাকেনা হয়। অর্থাৎ হ্যাকিং সফটওয়্যার থেকে শুরু করে হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট, অস্ত্র, মাদক, ক্রেডিট কার্ড নাম্বারসহ অনেক কিছুই এখানে ক্রয়-বিক্রয় হয়।
তবে ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশের কার্ডধারীদের তথ্য ফাঁস হলেও আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা এর মাধ্যমে টাকা সরাতে আপাতত খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না, কারণ বাংলাদেশ থেকে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইচ্ছেমত লেনদেন করা যায় না বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার কারণে। (বিবিসি বাংলা অবলম্বনে)