বাংলাদেশের শততম টেস্টে সাকিবের সেঞ্চুরি

আপডেট: মার্চ ১৮, ২০১৭, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



বাংলাদেশের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন সাকিব আল হাসান। আর তাতেই অষ্টম ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ড বুকে ঢুকে গেছেন। পাকিস্তানের মাজিদ খান, অস্ট্রেলিয়ার ওয়ারেন বার্ডসলি ও চার্লস কেলওয়ে, নিউজিল্যান্ডের বেভান কংডন ও ব্রায়ান হেস্টিংস, দক্ষিণ আফ্রিকার বিলি ওয়েড এবং জিম্বাবুয়ের গ্রায়েম ক্রেমারের পর সাকিব শততম টেস্টে হয়েছেন সেঞ্চুরির মালিক।
যদিও অনন্য একটি মাইলফলকে পৌঁছানোর আগের দিন তার ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রশ্নটা অনেক দিন ধরেই চলছিল। সেই সাকিবই শুক্রবার ভোজবাজির মতো পাল্টে গেলেন! নিজেকে নিয়ে গেলেন রেকর্ড বুকে! তাইতো এমন একটি সেঞ্চুরি সাকিবের কাছে ‘বিশেষ কিছু’। হয়তো রেকর্ড বুকে নাম লেখানো নয়, সমালোচকদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে পেরেই হাসিমুখে সাকিব!
শুক্রবার সাকিবের খেলা ১১৬ রানের ইনিংসটি লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি আর ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। সাকিব শুক্রবারের সেঞ্চুরিকে কোনও বিশেষত্ব দিলেন না, ‘আপাতত তো পাঁচ নম্বরেই আছে। প্রতিটি সেঞ্চুরিই আমার কাছে বিশেষ। সত্যি কথা, দলের জন্য অবদান রাখতে পারা আরও বিশেষ কিছু।’
বৃহস্পতিবার রাতটুকুতেই নিজেকে বদলে ফেলেছেন সাকিব। চান্ডিমালের ব্যাটিং দেখেই শিখেছেন- কিভাবে এমন উইকেটে ব্যাটিং করবেন। দিন শেষে তাই সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে বিপদমুক্ত করেছেন। শততম টেস্টের সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সাকিবের বক্তব্য ঠিক এমনই, ‘অবশ্যই এই সেঞ্চুরিটা বিশেষ কিছু। যে কোনও পরিস্থিতিতেই যদি একশো করা যায়, আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তিগত অর্জনেরে দিক দিয়ে চিন্তা করলে অবশ্যই বিশেষ কিছু। এখানে এটা আরও একটু বড়। কেননা এই রানটা আমাদের প্রয়োজন ছিল। ভাগ্যক্রমে আমি করতে পেরেছি। এই কারণে আমি খুশি।’
বাংলাদেশের মাইলফলকের ম্যাচে সেঞ্চুরি করতে পেরে কেমন লাগছে? স্বভাবগত ভাবেই সাকিবের উত্তর, ‘এই ভাবনা থেকে আপনারা ভালো লিখতে পারবেন (হাসি)। আমার তো কিছু বলার নেই। এটা শততম হোক আর প্রথম টেস্ট হোক বা আমার জীবনের শেষ টেস্ট হোক, ৫০তম টেস্ট হোক; আমি যদি দলের জন্য অবদান রাখতে পারি সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওটা করতে পেরেছি, তাতেই আমি খুশি।’
বাংলাদেশ তাদের শততম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখবে বলে জানিয়েছিলেন সাকিব। এমনকি দলের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশও মনে করেন ছেলেরা এমন একটি মাইলফলকের ম্যাচ থেকে প্রেরণা নেওয়ার সুযোগ পাবে। সাকিব প্রেরণার কথা না জানালেও এই টেস্ট ম্যাচটি যে বাংলাদেশের জন্য স্পেশাল সেটা স্বীকার করেছেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এই টেস্টটি বিশেষ। তবে আমার কাছে, এটা আরও একটা টেস্ট ম্যাচের মতোই। দেশের জন্য আরেকটা ম্যাচে খেলার সুযোগ, অবদান রাখার সুযোগ। আমি সব সময় ওইভাবেই নেই। অবশ্যই বাংলাদেশের ক্রিকেট যে এগিয়ে যাচ্ছে তার একটা প্রমাণ যে, আমরা একশো টেস্ট খেলে ফেললাম। হয়তো ফল সেভাবে করতে পারিনি। তবে খুব যে খারাপও করেছি তাও বলা যাবে না।’-বাংলা ট্রিবিউন