বাংলাদেশের সক্ষমতা, মুগ্ধ আইপিইউ প্রতিনিধিরা

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


শতাধিক দেশের পার্লামেন্ট সদস্যসহ দেড় হাজারের বেশি প্রতিনিধি নিয়ে বড় আয়োজনের আইপিইউ সম্মেলন করাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন আয়োজন সংশ্লিষ্টরা। আর এই আয়োজনের বিশালতা মুগ্ধ করেছে অতিথিদের।
আয়োজকরা বলছেন, গত বছরের গুলশান হামলার ঘটনা যে বাংলাদেশের আসল চিত্র নয়, আইপিইউ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তা সরাসরি তুলে ধরা যাচ্ছে ১৩৪টি দেশের কাছে।
সম্মেলনের নানা আলোচনায় বাংলাদেশকে তুলে ধরার পাশাপাশি সম্মেলনস্থলে একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন রেখে সুযোগটি কাজে লাগানোর প্রয়াসও চালিয়েছে সরকার।
শনিবার ঢাকায় শুরু হয়েছে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন, যে ফোরামে বিশ্বের ১৭১টি দেশ সদস্য, সহযোগী সদস্য ১১টি দেশ। এর আগে বাংলাদেশে এত বড় কোনো ফোরামের এত বড় কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। তাই সম্মেলন ঘিরে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি, আর তার উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই তাক লেগে গেছে বিদেশি প্রতিনিধিদের।
আইপিইউ সদর দপ্তরের মুখপাত্র জ্যঁ মিলিগান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গর্ব করার মতো চমৎকার আয়োজন। আমরা এটার অংশ হতে পারে গর্বিত। আপনাদের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ।”
রোববার সম্মেলনের সাধারণ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ঢাকার এই আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নোবেলজয়ী ভারতীয় অধিকারকর্মী কৈলাশ সত্যার্থী।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যে দারুণ আতিথেয়তা দিচ্ছে তার জন্য ধন্যবাদ। ধন্যবাদ বাংলাদেশ। এটা সত্যিকার সোনার বাংলার একটি প্রদর্শনী।”
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে। পাঁচ দিনের সম্মেলনের অন্য অনুষ্ঠান হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।
সদস্য দেশগুলোর বাইরে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন সম্মেলনে। শনিবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তা পড়ে শোনান সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকা।
তথ্য কণিকা
# অংশগ্রহণকারী দেশ ১৩৪টি, প্রতিনিধি দেড় হাজার
# ৫৩টি দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার ও ৪০ জন ডেপুটি স্পিকার আছেন অনুষ্ঠানে
# অতিথিরা থাকছেন ঢাকার ১৫টি হোটেলে
# অতিথিদের অভ্যর্থনা ও যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা পুলিশের
বিশাল এই আয়োজন যে বাংলাদেশকে ভিন্ন ভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরবে, তা আগেই বলেছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী।
গুলশানে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশির প্রাণহানির পর গত বছর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশেনের সম্মেলন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আইপিইউ সম্মেলন আয়োজনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
এই আয়োজন নিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিরীন শারমিন বলেছিলেন, “এত বড় একটি সম্মেলন আয়োজন করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সমগ্র বিশ্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। সেখানে আমরা সুষ্ঠুভাবে এটা করতে পারছি। এই সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণ হল- বাংলাদেশের সক্ষমতা আছে।”
‘রিড্রেসিং ইনইকুয়ালিটিজ: ডেলিভারিং অন ডিগনিটি অ্যান্ড ওয়েল বিং ফর অল’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী।
পাঁচ দিন ধরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইপিইউর বিভিন্ন কমিটির বৈঠক হবে। সেখানে শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা নিয়ে আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলছেন, “ঢাকায় এই সম্মেলনে আয়োজনে কিছু ‘লিগ্যাসি’ রাখা হবে। এর পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবারের মতো আইপিইউ ‘গ্রিন অ্যাসেম্বলি’র আয়োজন করা হয়েছে। এখান থেকেই যাত্রা শুরু হয়েছে আইপিইউটিভির।”
আইপিইউ’র প্রতিবছর দুবার সম্মেলন হয়, যার একটি সব সময় হয় জেনেভায়, আরেকটি অন্য কোনো দেশে। এবারই প্রথম এই সম্মেলনের আয়োজন করল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।- বিডিনিউজ