বাংলাদেশের সেরা সাফল্য

আপডেট: মার্চ ২০, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়টা গভীরতার বিচারে নিঃসন্দেহে টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের সেরা সাফল্য। এর আগে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ও ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অ্যাওয়ে টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে কোনোটিই ছিল না গতকাল রোববার কলম্বোতে পাওয়া সাফল্যের সমান।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায়, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাঙ্গনে চলছে অস্থিরতা। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বে শীর্ষ খেলোয়াড়রা বয়কট করেন এই সিরিজ। কিংসটনে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট একাদশে ৯ জন খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়। বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৩৮ ও ৩৪৫।  ৯৫ রানের জয়ে লেখা হয় বাংলাদেশের প্রথম বিদেশের মাটিতে জয়ের ইতিহাস। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৮ রান করেছিলেন কালকের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ তামিম ইকবাল। ৩০৭ ও ১৮১ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর। তামিম ইকবাল সেই ম্যাচেরও ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। এরপর গ্রেনাডায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে  ২৩২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে  ২১৭ রান করে ৪ উইকেটে জিতে যায় ম্যাচ।  ম্যাচসেরা হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।
এরপর ২০১৩ সালে হারারেতে জিম্বাবুযের বিপক্ষে ১৪৩ রানের জয়ে বিদেশের মাটিতে জয়ের খরা কাটায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৩৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯১ রান করেছিল টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ২৮২ ও ২৫৭। ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হন মুশফিকুর রহিম।
উপরের তিনটি ম্যাচেই বাংলাদেশ ছিল প্রতিপক্ষের তুলনায় শক্তিশালী। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলটি ছিল দ্বিতীয় সারির আর ২০১৩ সালের পর থেকে জিম্বাবুয়ে দল হিসেবে বাংলাদেশের উপরে ছিল না।
কালকের অর্জিত জয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮ টেস্টে প্রথম এবং শ্রীলঙ্কার মাটিতেও প্রথম জয়। তা ছাড়া বর্তমানে শ্রীলঙ্কার সেরা খেলোয়াড়রাই ছিলেন একাদশে। প্রতিকূল অবস্থা টপকেই জিতেছে বাংলাদেশ। বারবার রাশ টেনে ধরেছে শ্রীলঙ্কা, কিন্তু লক্ষ্যে অবিচল টাইগারদের জয় রথ থামাতে পারে নি। বাংলাদেশ বিদেশে টেস্ট জিততে পারে না, সেই অপবাদও ঘুচিয়েছে মুশফিকরা। সবদিক মিলিয়ে তাই টেস্টে এটিই টাইগারদের সেরা সাফল্য।-বাংলা ট্রিবিউন