বাংলাদেশে আবারো জঙ্গিবাদ! সম্ভব-অসম্ভবের দোলাচল

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

তারা সংগঠিত নয় এবং বড় ধরনের কোনো কিছু ঘটানোর সামর্থ তাদের নেই এমন কথা পুলিশের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকেই আসছে। নিঃসন্দেহে পুলিশের দেয়া এই আশ্বাসে দেশের মানুষ নিশ্চিন্ত হতে পারে, সাহসী হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নতুন করে উত্থানের আশকা রয়েছে এবং জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো এখনো বিলুপ্ত হয়ে যায় নি। নিঃশেষ তো হয় নি বরং জঙ্গিরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী রাজনীতির উত্থানের আশংকা অনেকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পরেও কেন জঙ্গি উত্থানের আশংকা থাকবে?
জঙ্গি উত্থানের বিষয়টি একক কোনো রাষ্ট্র বা দেশের সমস্যা নয়, এটি সর্বতভাবেই বৈশি^ক সমস্যা। জঙ্গিবাদের সাথে বিশ^যোগ রয়েছে। বিশে^র জঙ্গি পরিস্থিতি এবং সেটা বাংলাদেশের ওপর কতটুকু ও কীভাবে প্রভাবিত করবে সেটার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কতটুকু শক্তি সঞ্চয় করবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জঙ্গিদের তৎপরতার বিষয়টিকে সমপর্যালোচনার ভিত্তিতে জঙ্গি উত্থানের আশংকা কতটুকু তা নিরূপণ করা যেতে পারে। প্রত্যক্ষভাবে জঙ্গিবাদের তৎপরতা আপাত দৃষ্টিগোচর না হলেও তাদের সংগঠিত হওয়ার বিষয়টিকে মোটেও উড়িয়ে দেয়া যায় না। অপরদিকে পরোক্ষভাবে জঙ্গি মতবাদ বিস্তারের বিষয়টিতে কোনো রাখঢাক আছে বলে মনে হয়না। বাংলাদেশের জঙ্গিরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিকতর সক্রিয় ও সোচ্চার। অবশ্য সুখের কথা এই যে, সরকার সে ক্ষেত্রেও জিরো টলারেন্স দেখাতে কুণ্ঠিত হয় নি। সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে ইসলাম গণতন্ত্রের মোড়কে থেকে যে সহিংস কর্মক্-া ঘটিয়েছে তা জঙ্গিবাদের আগ্রাসনকেই ইঙ্গিত করে। এখনো ইউটিউবসহ অন্য সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভাবে উগ্র ও কট্টর ভাষায় উস্কানি ছড়ানো হচ্ছে সেটা জঙ্গি তৎপরতারই অংশ। এটা বলা যায় যে, জঙ্গিবাদের প্রত্যক্ষ রূপটি আপাতত আড়ালে থাকলেও পরোক্ষ রূপটি কিন্তু প্রকাশ্যেই আছে। জঙ্গিরা সমাজ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত হয়ে জঙ্গিবাদের ধারণাকেই ছড়িয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানে জঙ্গিবাদী তালেবানরা একেবারে রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছি চলে এসেছে। ভূ-রাজনৈতিক কারণেই এর প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সেটা বিবেচনায় রেখেই অগ্রসর হওয়া সমীচীন হবে। একই সাথে বাংলাদেশে আশ্রয়লাভি রোহিঙ্গা ও তাদের নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও অধিক সতর্কতা অবলম্বন জরুরি হয়ে পড়েছে।
জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এটা একক কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা হতে পারে না। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শেষ জয়টি ধরে রাখতে হলে জাতীয় রাজনীতিকেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐকমত্য থাকতেই হবে। একদিকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের রাজনীতি অন্যদিকে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক রাজনীতির আড়ালে জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ বয়ে আনা সম্ভব হবে না। জাতীয় রাজনীতিকেই সেটা ঠিক করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ