বাংলাদেশে আল-কায়দা, আইএস এর অস্তিত্ব! || আবারো ষড়যন্ত্র, সতর্ক থাকার সময়

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে আল-কায়দা ও আইএস জঙ্গিরা সক্রিয় এটা প্রমাণ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উঠেপড়ে লেগেছিল। সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে ঘরে বাইরে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হয়েছিল। বাংলাদেশ বরাবরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মাঝখানে ব্যাপারটি থেতিয়ে পড়েছিল। কেননা একদিকে আমেরিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খোদ সে দেশেই এক ধরনের রাজনৈতিক উত্তপ্ত-অবস্থা সরগরম ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেশে এবং বিদেশেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখনো জঙ্গিরা নিজেদের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু তারা তা পেরে উঠছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতার কারণে। এ যাবত ধৃত বা নিহত জঙ্গিদের মধ্যে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, দেশের অভ্যন্তরে আল-কায়দা কিংবা আইএস জঙ্গিদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তা হলে হঠাৎ করে কেনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই ‘আল- কায়দা ও আইএস’ জুজুর প্রসঙ্গ নতুন করে আবারো উপস্থাপন করলো?
২০১৬ সালের বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে গুলশান হামলাসহ বিভিন্ন হত্যাকা-ে জড়িতদের সঙ্গে আইএস-আল কায়দার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর তৎপরতা বেড়েছে, যারা নিজেদের দায়েশ (আইএস) ও আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার সহযোগী বলে দাবি করে।
গত বছরের গুলশান হামলাসহ এর আগে-পরে অনেকগুলো হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে কখনও আইএস এবং কখনও আল কায়দার নামে বার্তা এসেছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার ওই সব বার্তা উড়িয়ে দিয়ে বলে আসছে, দেশি জঙ্গিরাই হত্যাকা- ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর নাম ভাঁড়াচ্ছে।
প্রকৃত অর্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যটা কী? আর উদ্দেশ্য যে মোটেও ভাল না, তা বলাই বাহুল্য। আমেরিকা উন্নয়নকামী কোনো দেশের জন্যই মঙ্গলজনক নয়। তারা মতলববাজ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অধিকাংশকেই ভঙ্গুর রাজ্যে পরিণত করেছে। সে গুলোতে চলছে মানবিক বিপর্যয়। বাংলাদেশেকেও তারা তেমনটা বানাতে চায়। যে কারণে তারা জোর করে বাংলাদেশে আল-কায়দা ও আইএস এর অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। যাতে করে বাংলাদেশে  একটা যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আমেরিকার এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার সাথে বাংলাদেশের মানুষ মোটেও নেই। অবশ্য যারা আমেরিকার বশংবদ আছে তারাও তাদের সাথে তাল মিলাচ্ছে বটেÑ শেষ পর্যন্ত তারা কুলিয়ে উঠতে পারবে না।
জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ এখন আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ সমস্যা থেকে খোদ আমেরিকাসহ ইউরোপের দেশগুলোও মুক্ত নয়। সব দেশই জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিতে। তবে কেন শুধু বালাদেশেকে আঙুল দিয়ে দেখাতে হবে যে, বাংলাদেশে আল-কায়দা ও আইএস ঘাটি গেড়েছে? ‘নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ’ করার নোংরা খেলাটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুবই পুরান অভ্যাস। কিন্তু আমেরিকার অভ্যন্তরে যে সন্ত্রাসবাদ, বর্ণবাদ , বিদ্বেষ-বৈষম্য, ধমীয় উস্কানি আছে সে গুলোর ব্যাপারে তাদের কথা নেই। অথচ তারা অন্যের ছিদ্র অন্বেষণেই ব্যাপৃত থাকছে। এটার অবশ্য কারণ আছে। তারা উন্নয়কামী দেশগুলোকে তাদের বশংবদ, পোষ্য করে রাখতে চায়। কিন্তু বাঙালিরা তা মানবে কেন? আমেরিকার প্রচ- বিরোধিতার মুখেই তো বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জন।
ওই শক্তি স্বাধীনতার পরও তৎপর ছিল, এখনো আছে। জাতির প্রচুর ক্ষতি ও সর্বনাশের কারণ তারা। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকাই বাঞ্ছনীয়। ওই অপশক্তি যাতে বাংলাদেশকে আর ক্রীড়নকে পরিণত করতে না পারে সে জন্য গণতন্ত্রকামী মাুনষের এক্য এই মূহূর্তে খুবই প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ