বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আসছে সম্ভাবনা দক্ষতার সাথে কাজে লাগাতে হবে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। করোনাকালে দেশ সমূহের মধ্যে নানা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চিন-মার্কিন সম্পর্ক কিংবা চিন- ইউরোপিয় ইউনিয়ন সম্পর্কের ব্যাপক মেরুকরণ হয়েছে। ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে বলেই সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে উৎপাদন কারখানাগুলো চিন থেকে সরিয়ে বাংলাদেশে আনার জন্য জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে জাপান সরকার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার আসতে চলেছে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চিনে বৈশ্বিক মহামারি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা জরুরি হয়ে ওঠে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা ভালো সুযোগ এনে দিচ্ছে।
জাপান এমন সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারখানা স্থানান্তরে উৎসাহিত করছে, যখন সেই দেশেরই প্রতিষ্ঠানগুলোকে টানতে বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। এই শিল্প এলাকাটি গড়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরবর্তী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় এক হাজার একর জমির ওপর। সেখানে ২০ বিলিয়ন ডলার জাপানি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ।
একদিকে ভিয়েতনাম-বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে, অন্যদিকে চিনে বেড়েছে মজুরি ব্যয়। একারণে বেশ কয়েক বছর ধরেই জাপানি প্রস্তুতকারকরা স্বল্প মজুরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে চিন থেকে কিছু ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। নাওকি ইতোর তথ্যমতে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে প্রায় ৩০০’তে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এটা ইতিবাচক সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত আছে। এই তৎপরতার সাফল্যই প্রত্যাশিত। ট্রাম্প যে পরিস্থিতি বিশ্বে রেখে গেছে, তার অভিঘাত খুব সহজেই নিরসন হয়ে যাবে তেমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। চিন ও রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বলাইয়ের সম্পর্ক সহসাই স্বাভাবিক হবে বলে মনে হয় না। সে ক্ষেক্রে পশ্চিমা বলয়ের আরো দেশ বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র খুঁজে নিবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবেÑ যাতে করে বাংলাদেশ যেন সেই ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ