বাংলাদেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

মো. আব্দুল আলীম (পিএইচডি)

[২৩ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত প্রবন্ধ]

নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা (ঊষবপঃরড়হ গধহধমবসবহঃ ইড়ফু – ঊগই) এবং সার্বিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর অংশীজনদের আস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্রথম ধাপ হচ্ছে স্বচ্ছ ও বিশ^াসযোগ্য প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া। যথাযথ আইনি কাঠামো ও এর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে  আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যখন যথাযথ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা-সম্পন্ন, পেশাদার ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, তখন তা শুধু নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াই নয় বরং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবেও কাজ করে। যদিও অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ^াসযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি “স্বাধীন” নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থাই বিশ^ব্যাপী কাম্য, একইসাথে নির্বাচন কমিশনারদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (ঢ়বৎংড়হধষ রহফবঢ়বহফবহপব) এবং সততাও (রহঃবমৎরঃু) এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুনিয়াজুড়ে অজ¯্র উদাহরণ রয়েছে যেখানে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনারদের সততা ও পেশাদারিত্বে ঘাটতির কারণে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া সমিচীন নয়।
অ্যাডভোকেসি পেপারের উদ্দেশ্য
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের ১১তম নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ায় ১২তম নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেয়া গুরুত্বপুর্ণ। এ প্রেক্ষিতে নাগরিক সমাজের দাবিগুলো তুলে ধরাই এ অ্যাডভোকেসি পেপারের উদ্দেশ্য:
ক্স    বাংলাদেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনী কাঠামো ও বাস্তবতার চিত্র বিশ্লেষণ করা;
ক্স    কিছু অনুসরণমূলক উদাহরণসহ (মঁরফরহম ঢ়ৎরহপরঢ়ষবং) প্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান গণতন্ত্রের দেশগুলোতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া তুলে ধরা;
ক্স    বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারের বিবেচনার জন্য একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা।
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ: পৃথিবীর অন্যান্য দেশের উদাহরণ
নিয়োগ প্রক্রিয়া: সমগ্র বিশে^র নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে প্রধানতঃ আট ধরনের পদ্ধতি খুঁজে পাওয়া যায়:
ক্স    উন্মুক্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ
ক্স    অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ
ক্স    সংসদের/আইনসভার মাধ্যমে নিয়োগ
ক্স    নির্বাহী প্রধানের মাধ্যমে নিয়োগ (উদাহরণ: প্রধানমন্ত্রী)
ক্স    রাষ্ট্র প্রধানের মাধ্যমে নিয়োগ (উদাহরণ: রাজা/রানী/গভর্নর)
ক্স    বিচার বিভাগের মাধ্যমে নিয়োগ (উদাহরণ: জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন)
ক্স    রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নিয়োগ, এবং
ক্স    একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ
কমিশনারদের যোগ্যতা: নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নির্ভর করে নির্বাচন কমিশন কি ধরনের – অর্থাৎ দক্ষতা-ভিত্তিক কমিশন (বীঢ়বৎঃ-নধংবফ পড়সসরংংরড়হ) নাকি রাজনৈতিক দল-ভিত্তিক কমিশন (সঁষঃু-ঢ়ধৎঃু নধংবফ) তার উপর। রাজনৈতিক দল-ভিত্তিক কমিশনে প্রধানতঃ দলগুলো তাদের প্রয়োজনীয় মাপকাঠির ভিত্তিতে কমিশনারদের যোগ্যতা নির্ধারণ করে থাকে। অন্যদিকে দক্ষতা-ভিত্তিক কমিশন নীচের যোগ্যতার ভিত্তিতে গঠিত হয়:
ক্স    নিরপেক্ষতা (ওসঢ়ধৎঃরধষরঃু)
ক্স    ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা (চবৎংড়হধষ রহঃবমৎরঃু ধহফ ভধরৎহবংং)
ক্স    নাগরিকত্ব (ঈরঃরুবহংযরঢ়/ ৎবংরফবহপব রহ পড়ঁহঃৎু)
ক্স    ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স (গরহরসঁস ধহফ সধীরসঁস ধমব)
ক্স    পেশাগত যোগ্যতা (চৎড়ভবংংরড়হধষ য়ঁধষরভরপধঃরড়হং)
ক্স    নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে জ্ঞান (কহড়ষিবফমব ড়ভ বষবপঃড়ৎধষ রংংঁবং)
ক্স    শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা (চযুংরপধষষু ধহফ সবহঃধষষু যবধষঃযু)
ক্স    রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নয় (ঘড়ঃ ঢ়ড়ষরঃরপধষষু ধপঃরাব)
ক্স    ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত (জবমরংঃবৎবফ ধং ধ াড়ঃবৎ)
ক্স    অন্য অফিসে নিয়োগে বিধি-নিষেধ (ইধহং ড়হ যড়ষফরহম ড়ঃযবৎ ড়ভভরপব)
ক্স    চারিত্রিক স্বচ্ছতা (ঈযধৎধপঃবৎ ৎবয়ঁরৎবসবহঃ)
কয়েকটি দেশের নিয়োগ প্রক্রিয়া: নীচে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু উদাহরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হল।
ভারত: ভারতের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে: ‘ঃযব ধঢ়ঢ়ড়রহঃসবহঃ ড়ভ ঃযব ঈযরবভ ঊষবপঃরড়হ ঈড়সসরংংরড়হবৎ ধহফ ড়ঃযবৎ ঊষবপঃরড়হ ঈড়সসরংংরড়হবৎং ংযধষষ, ংঁনলবপঃ ঃড় ঃযব ঢ়ৎড়ারংরড়হং ড়ভ ধহু ষধি সধফব রহ ঃযধঃ নবযধষভ নু চধৎষরধসবহঃ, নব সধফব নু ঃযব চৎবংরফবহঃ’.  বিভিন্ন সময়ে সরকার কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন কমিটি কমপক্ষে তিনবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য ফর্মূলা সুপারিশ করলেও ভারতে এতদসংক্রান্ত কোনো আইন নেই। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য দেশটির আইন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইল পাঠায় এবং প্রধানমন্ত্রী ওই ফাইলে রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার/নির্বাচন কমিশনারের নাম প্রস্তাব করেন। সাধারণতঃ রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবিত নাম অনুমোদন করেন।
ভুটান: ভুটান নতুন গণতন্ত্রের দেশ এবং এর সংবিধানে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ব্যাপারে কিছু বলা নেই। দেশটির নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, স্পিকার, জাতীয় পরিষদের সভাপতি এবং বিরোধী দলীয় নেতার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হয় এবং এ কমিটি প্রণীত তালিকা অনুযায়ী রাজা প্রধান নির্বাাচন কমিশনার ও দুজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা: একজন প্রধান সহ মোট ৫ জন সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়, অবশ্যই এই ৫ জনের ১ জন হবেন বিচারপতি যাকে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। অন্য ৪ জন সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে; কমিটির প্রধান হচ্ছেন সাংবিধানিক আদালতের সভাপতি, অন্য সদস্যবৃন্দ হচ্ছেন, মানবাধিকার কমিশন, জেন্ডার ইকুয়ালিটি ও পাবলিক প্রটেকটরের একজন করে প্রতিনিধি। এ কমিটি কমপক্ষে ৮ জনের একটি তালিকা প্রণয়ন করে ঈড়সসরঃঃবব ড়ভ ঘধঃরড়হধষ অংংবসনষু ড়হ ঃযব ৎবপৎঁরঃসবহঃ ড়ভ ঊগই পড়সসরংংরড়হবৎং এর কাছে পাঠায়। পরে আইনসভায় তর্ক-বিতর্কের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ৪ জনের তালিকা তৈরি করে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়া: নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনি কাঠামো একটি মিশ্র প্রক্রিয়ার কথা বলে। প্রধান কমিশনার সহ ৯ জন কমিশনারের মধ্যে ৩ জনকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি, ৩ জনকে নিয়োগ দেন জাতীয় সংসদ এবং অবশিষ্ট ৩ জনের নিয়োগকর্তা হলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি।
বুরকিনা ফাসো: প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নাগরিক সমাজের একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়। এ নিয়োগের জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়-ক্ষমতাসীন দল মনোনীত ৫ জন, বিরোধীদল মনোনীত ৫ জন এবং নাগরিক সমাজ মনোনীত ৫ জন এ কমিটির সদস্য।
বাংলাদেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের আইনি কাঠামো ও এর সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে “উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন” বলা থাকলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগের কোন যোগ্যতা অথবা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সংবিধানে কোন কিছু বলা নেই। সাংবিধানে উল্লেখ করা থাকলেও, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংসদ এ ব্যাপারে কোন আইন প্রণয়ন করেনি। আবার সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, “এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন”। এই অনুচ্ছেদে আরও বলা আছে “তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।”  সংবিধানের উপরোক্ত ধারাগুলোর বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়:
ক্স    সংবিধানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কথা বলা থাকলেও বাংলাদেশে এতদ্বসংক্রান্ত কোনো আইন নেই;
ক্স    রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত;
ক্স    নিয়োগ প্রক্রিয়া কেমন হবে- অর্থাৎ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে কী-না, উন্মুক্ত বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে কী-না, রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে কী-না- এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা/প্রবিধান/গেজেট নেই;
ক্স    কমিশনারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা/প্রবিধান/গেজেট নেই;
ক্স    সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করবেন এবং সে বিষয়ে কোনো আদালত কোনো তদন্ত করতে পারবে না।
সংবিধানের উপরোক্ত বিধানের কারণে বাংলাদেশে মূলত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তে (ংড়ষব ফরংপৎবঃরড়হ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক একটি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন নিয়োগ দেয়া হলেও এটি ছিল একটি অ্যাড-হক (ধফ-যড়প) ব্যবস্থা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সাধারণভাবে অরাজনৈতিক এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ দেয়া হলেও অধিকাংশ দলীয় সরকারের সময়ে নিজ নিজ দলের প্রতি অনুগত্যশীল লোকদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
( সুপারিশমালা ৩ এর পাতায় দেখুন)