বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার কমে ২-৩% হতে পারে: বিশ্ব ব্যাংক

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২০, ২:২৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর বিস্তার অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
এর মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার সরকারি প্রাক্কলনের অর্ধেকেরও বেশি কমে ২-৩ শতাংশের মধ্যে নেমে আসতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারীর চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রোববার প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক বলছে, এই মহামারীর পরিস্থিতির বিস্তার ও স্থায়িত্বের উপর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি নির্ভর করবে। আপাতত গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের সরকারি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এই অর্থবছরে তা ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেও সরকারের অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের কাছাকাছি হবে বলে আশার কথা শুনিয়েছিলেন।
তবে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, প্রবৃদ্ধির হার শুধু এবার কমে থেমে থাকবে না, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে তা ১ দশমিক ২ শতাংশ-২ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু পরের ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ২ দশমিক ২ শতাংশ-৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।
সংস্থাটি মনে করে, এই মহামারী উৎপাদন খাতসহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ উৎপাদিত পণ্যের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বেকারত্বের ঝুঁকি তৈরি করবে এবং দারিদ্র্য বাড়াবে।
নগরের দরিদ্ররা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, গ্রামীণ এলাকায়ও দরিদ্রের সংখ্যা বাড়বে। দেশজুড়ে সবকিছু বন্ধ থাকায় ব্যক্তিপর্যায়ে ভোগ কমে যাবে। মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের আশা থাকলেও বিশেষ করে দেশে কোভিড-১৯-এর বিস্তার ও আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা থেকে নিম্নমুখী ঝুঁকি বিরাজমান রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ