বাংলাদেশে বায়ু দূষণ উদ্বেগজনক

আপডেট: জুন ২৫, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা চাই


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ‘পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে অনিষ্টকর পদার্থের সমাবেশ যখন মানুষ ও তার পরিবেশের ক্ষতি করে সেই অবস্থাকে বায়ুদূষণ বলে।’ প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বায়ু বা বাতাস। অন্যান্য যে কোনো দূষণের চেয়ে বায়ুদূষণের পরিধি এবং ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি। কারণ বাতাস স্বল্প সময়ে দূষিত পদার্থকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিতে পারে। বায়ুদূষণ স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় পরিবেশগত ঝুঁকিগুলোর একটি। পুরো বিশ্বে ১০ জনের মধ্যে ৯ জন দূষণযুক্ত বায়ুতে শ্বাস নেয়।

বায়ুদুষণে বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে ভয়ানক তা বলাই বাহুল্য। ২০২৩ সালে বাতাসের গুণগত মানের দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। এর পরের দুই অবস্থান দখল করেছে যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত। আইকিউএয়ার প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানায় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেয়া মানদণ্ডের চেয়ে অন্তত ১৫ গুণ বেশি পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম) পাওয়া গেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের বাতাসে। ২০২২ সালেও বাংলাদেশ বিশ্বের দূষিত বাতাসের দেশের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ছিল এবং ভারতের অবস্থান ছিল আট। এই তথ্যই বলছে বাংলাদেশে বায়ু দূষণের মাত্রা কী হারে বাড়ছে!

বাংলাদেশে বায়ু দূষণ পরিস্থিতি যে মারাত্মক তা ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট (এইচইআই) থেকে প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে সেই তথ্য উঠে এসেছে। স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের (এসওজিএ)-২০২৪ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়াসহ পূর্ব-পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার দেশগুলোতে বায়ুদূষণ-জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

শুধু ২০২১ সালেই বাংলাদেশে ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মৃত্যুর কারণ ছিল এ বায়ুদূষণ, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ২০ জুন ইউনিসেফ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রিপোর্টে আরো উঠে এসেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা বায়ুদূষণজনিত রোগের শিকার হয়ে থাকে বেশি। এর প্রভাবে অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ, কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ, হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যার দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালে, বাংলাদেশে বায়ু দূষণ’র কারণে ১৯ হাজারেরও বেশি ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

উদ্বেগজনক এই যে, বায়ু দূষণ পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে বরং তা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বায়ু দূষণের জন্য দায়ি অবস্থাগুলোর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। অথচ বায়ু দুষণ রোধে আইন আছে, বিধিও আছে। বাংলাদেশ নির্মল বায়ু আইন ২০১৯ এবং বায়ু দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২ বলবৎ আছে কিন্তু বান্তব পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
বায় দূষণমুক্ত পরিবেশের জন্য বায়ু দূষণের জন্য কারণ সমূহ দূরীকরণে আইন প্রয়োগের সাথে সাথে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ সুরক্ষা শপথ নেয়ার সময় এসেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ