বাংলাদেশ থেকে কলকাতা হয়ে ভারতে ছড়াচ্ছে প্ল্যাস্টিক আরডিএক্স?।। মেটাল ডিটেক্টর বা স্নিফার ডগের তল্লাশিতেও ধরা পড়ে না

আপডেট: জুন ২১, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

কলকাতার বর্তমান পত্রিকার প্রতিবেদন


জঙ্গিদের হাত ধরে চিন থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে ঢুকছে ‘প্ল্যাস্টিক আরডিএক্স’! যা মেটাল ডিটেক্টর অথবা স্নিফার ডগের তল্লাশিতেও ধরা পড়ার ভয় নেই। টিপারের হাত ধরে সীমান্ত থেকে কলকাতা হয়ে তা পৌঁছে যাচ্ছে জঙ্গিদের ঠিকানায়। সম্প্রতি গোয়েন্দাদের হাতে এমনই চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য এসেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, এই ধরনের আরডিএক্স দিয়ে ‘মানববোমা’ তৈরি হয়। তাই এই বিস্ফোরক মজুতের খবরে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, আরডিএক্স ভয়ানক শক্তিশালী বিস্ফোরক। সাধারণ আরডিএক্স মেটাল ডিটেক্টরে ধরা পড়ে। তাছাড়া পাউডারের মতো এক ধরনের গুঁড়ো আরডিএক্স-এ রয়েছে। তাই মেটাল ডিটেক্টরে অনেক সময়ে ধরা না পড়লেও, স্নিফার ডগ তা শুঁকেই ধরে ফেলে। কিন্তু এই প্ল্যাস্টিক আরডিএক্স ধরা মুশকিল। তাই আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে সাধারণ আরডিএক্সের যা দাম, এই প্ল্যাস্টিক আরডিএক্সের দাম তার চেয়ে ছ’গুণ বেশি। যা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক বিপজ্জনক।
এক গোয়েন্দা অফিসার বলেন, পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছে পাকিস্তানের আইএসআই-এর এক চর। পাকিস্তানই কোটি কোটি টাকা লগ্নি করছে। চিন থেকে এই নতুন প্ল্যাস্টিক আরডিএক্স আমদানি হচ্ছে। একে বলা হয়, প্ল্যাস্টিক এক্সপ্লোসিভ। অর্থাৎ প্ল্যাস্টিকের আবরণে মোড়া বিস্ফোরক। কয়েক মাস আগেও চিন থেকে নেপাল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এই ধরনের বিস্ফোরক ঢুকেছে। কিন্তু নেপাল এখন তার দেশের বিভিন্ন সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। ভারতের একাধিক সীমান্ত তারা সিলও করেছে। তাই বিপদ এড়াতে জঙ্গিরা নেপাল সীমান্তকে আর ব্যবহার করছে না। তার পরিবর্তে মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে চিন থেকে প্রথমে বাংলাদেশে আমদানি করছে ওই বিস্ফোরক। তারপর উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহসহ এ রাজ্যের বিভিন্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত হয়ে এ দেশে তা ঢুকছে।
গোয়েন্দাদের কথায়, আইএসআইয়ের নেতৃত্বে জঙ্গি সদস্যরা সীমান্তের সাধারণ গরিব টিপারকে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে। ওই টিপার সীমান্ত টপকে এপারে আসছে। এপারে সীমান্তবর্তী গ্রামে জঙ্গি সদস্যরা অপেক্ষা করছে। সেখানেই তাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে বিস্ফোরক। তারপর সুযোগ বুঝে ফ্যামিলি কারে চেপে সীমান্ত থেকে কলকাতায় আসছে ওই বিস্ফোরক।
এক গোয়েন্দা অফিসার বলেন, বিমানে চেকিং বেশি। তাই ট্রেনে করেই কলকাতা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে ওই প্ল্যাস্টিক আরডিএক্স। এখনও এই চক্রে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এক মাথার খোঁজে তল্লাশি চলছে। ৯০ দিনের মাল্টিপল ভিসায় সে প্ল্যাস্টিক আরডিএক্স নিয়ে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে ঢুকেছে।