বাংলাদেশ নিয়ে অমিত শাহ’র কটূক্তি ‘তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে’

আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

১৩ এপ্রিল আনন্দবাজার পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘বাংলাদেশের গরিব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না’ বলে দাবি করেছেন। শুধু অমিত শাহ-ই নয় বিজেপির অন্য নেতারাও বাংলাদেশকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। এই কটূক্তি কতটা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য নাকি ভেদ বুদ্ধির রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ওই ধরনের কটূক্তি করা হচ্ছে তা বেশ প্রশ্ন সাপেক্ষ। বাংলাদেশের জন্য সেটা অবমাননাকর। পশ্চিমবঙ্গের চলমান নির্বাচনি ইস্যুতে বাংলাদেশকে বারবার টেনে আনা হচ্ছে- বাংলাদেশকে খারাপ উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি ১৩ এপ্রিল গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে তার জ্ঞান সীমিত। আমাদের দেশে এখন কেউ না খেয়ে মরে না। এখানে কোনো মঙ্গাও নেই।
অভিবাসন সারা পৃথিবী জুড়েই আছে। এর বৈধ-অবৈধ দুই রূপই আছে। কিন্তু এর জন্য কোনো দেশকে হেয় করে কথা বলতে হবে কেন? এটা তো ন্যূনতম শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের বাস্তব অবস্থাটাও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ভারতের লোকদের ৫০ শতাংশের কোনো ভালো বাথরুম নেই। আর আমাদের ৯০ শতাংশ লোকই ভালো বাথরুম ব্যবহার করেন। আমার দেশের শিক্ষিত লোকের চাকরির অভাব আছে, তবে অশিক্ষিত লোকের চাকরির অভাব নেই। আর ভারতের লক্ষাধিক মানুষ বাংলাদেশে চাকরি করে। তাই আমাদের ভারতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কটূক্তি করেছেন তা স্ববিরোধীও বটে। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেক ভাল অবস্থানে আছে। ভারত ক্ষুধা সূচকে সিরিয়াস ক্যাটাগরিতে আছে দেশটির অবস্থান সূচকের ৯৪ ক্রমে। অথচ বাংলাদেশের অবস্থান ৭৫তম। অর্থাৎ ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ অনেক ভাল অবস্থানে। অথচ সেই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আয়নায় নিজের চেহেরা না দেখেই বাংলাদেশকে কটাক্ষ করতে মোটেও দিধান্বিত হননি। এটা খুবই দুঃখজনক।
বলা হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক এর আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভাল। এটা দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বলছেন। তা হলে এটা কেমন সম্পর্ক যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতি অমন কটূক্তিমূলক বক্তব্য রাখেন? বন্ধুত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের কটূক্তি মোটেও প্রত্যাশিত নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় বলতে হয়, ‘তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ