বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর শুরু দেখেছেন শিশু লিটন

আপডেট: September 9, 2020, 11:01 pm

মুস্তাফিজুর রহমান খান:


ইন্টারনেটে ১৯৭১ এর গানবোটের ছবি পাওয়া গেল না তাই প্রতীক হিসাবে এটি দেওয়া হলো।

এখানের আমাদের মেয়র এএইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ১৯৭১-এ বারো বছরের শিশু। তখন বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের কিছু আগে সেপ্টেম্বর-আক্টোবর মাস হবে। সে সময় শিশু লিটন তাঁর পিতা বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য এএইচএম কামারুজ্জামান এর সঙ্গে গিয়েছিল কোলকাতার দক্ষিণে বারাসত এর গঙ্গার তীরে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর শুরু দেখতে। সেখানে সারি দিয়ে রাখা ছিল পাঁচটি গানবোট। গানবোটে উঠে একটি থেকে আরেকটির উপর হেঁটেছিল লিটন। শিশু লিটন এর স্মৃতি থেকে বলছিলেন আর আবেগ আপ্লুত হচ্ছিলেন।
ইন্টারনেটে ১৯৭১ এর গানবোটের ছবি পাওয়া গেল না তাই প্রতীক হিসাবে এটি দেওয়া হলো।
এই ঐতিহাসিক তথ্য আমরা জানলাম যখন মেয়র লিটন গত ১লা সেপ্টেম্বর ‘ফিরে দেখা : রাজনীতির দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধ’ বইটির প্রকাশনা উৎসব ও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন। অনুষ্ঠান চলছিল রাজশাহী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবনে। বইটির প্রণেতা অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম।
সেই ঐতিহাসিক দিনে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান প্রত্যক্ষ করেন বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর পথচলা অনুষ্ঠান। তিনি তখন স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঐতিহাসিক ঘটনার স্থান ছিল গঙ্গা নদীর মোহনার সন্নিকটে। তার পরেই বঙ্গোপসাগর। গঙ্গা সেখানে প্রাকৃতিকভাবেই অনেক চওড়া ও উত্তাল। সেখানেই বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর যাত্রা শুরু Ñ যতদূর অনুমান করা যায়। আর তার ৪৯ বছর পর রাজশাহীর মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারলেন বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর পথ চলা শুরুর কথা। যা তাদের ধারণার বাইরেÑকেননা তাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ছিল স্থলভাগে, যদিও পদ্মানদীর তীরে।
এই ঐতিহাসিক ঘটনা জানা গেল শিশু লিটনের শিশুকালের সংরক্ষিত স্মৃতি থেকে। সেই স্মৃতিই আমাদের কাছে মহামূল্যবান, ঐতিহাসিক মূল্য যার অনেক।
লেখক: মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক