বাংলাদেশ যেন রাজাকারদের দেশে পরিণত না হয়, সতর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৪, ১:৫০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আবার স্বাধীনতা বিরোধীদের দেশে পরিণত করতে এবং দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে দেয়া এক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। অবশ্যই এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। দেশকে কেউ যেন পেছনের দিকে ঠেলে দিতে ও রাজাকারের দেশে পরিণত করতে না পারে সে বিষয়ে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।

জার্মানির মিউনিখের হোটেল বার্গারহাউস গার্চিঙে জার্মানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর ভাগ্য নিয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।

তিনি বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জাতির পিতার বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট সোনার বাংলাদেশে রূপান্তরিত করবো।
শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সুফল প্রত্যেকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনারা একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় বৃথা যেতে দেবেন না।

তিনি বছেন, ‘আমি কখনই ভাবি না আমার কী দরকার বরং ভাবি যে আমি দেশ ও এর জনগণের উন্নতির জন্য কী করতে পারি।’
আাওয়ামী লীগকে গণমুখি দল আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের মানুষ মাতৃভাষা বাংলা ও দেশের স্বাধীনতাসহ সব কিছু পেয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দল ক্ষমতায় থাকায় আমরা কোভিড-১৯ মহামারির মতো বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ^াস রয়েছে কারণ তাদের প্রয়োজনে দলকে সবসময় পাশে পায়।
দেশের সার্বিক উন্নয়নের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। উন্নয়ন লক্ষ্য শুধু মেগা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়, তৃণমূলেও অগ্রগতি করা।

বিএনপিকে লুটেরাদের দল আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দল জনগণের কল্যাণে কিছুই করে না, বরং নিজেদের ভাগ্য গড়ে তোলে। তারা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মানুষকে পুড়িয়ে মারার কারণে পরাজয়ের ভয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

সরকার প্রধান হ্যাঁ/না ভোট এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রক্রিয়া ধ্বংস করার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। তবে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে ভোটের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে অবাধ, সুুষ্ঠু ও সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য। গত সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ বিশেষ করে নারীরা অবাধে ভোট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় না বসালে ২০০৯ সাল থেকে গত ১৫ বছরে আ.লীগ শাসনামলে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তা নষ্ট হয়ে যেত। লুটেরা (বিএনপি) সব লুট করে নিতো।’

শেখ হাসিনা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তার সরকার দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিদেশি অংশিদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করতে বলেন; যাতে তারা নিজেদের, দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারেন।
তিনি বলেন, তার সরকার বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি এবং যার জন্য আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বাংলাদেশকে ডিজিটাল করেছে এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং মিউনিখের স্থানীয় মেয়র অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ।
তথ্যসূত্র: বাসস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version