বাগমারায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৪, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি:রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের দুইদল চরমপন্থীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ফেব্রুয়ারী) রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সোহাগ নামের এক বহিরাগত যুবক নিহত হয়েছে। নিহত সোহাগ যশোরের মনিরামপুর এলাকার শরিফ মিস্ত্রীর ছেলে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে বাগমারা থানা পুলিশ, ভাগনদী তদন্ত কেন্দ্র ও ঝিকরা ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। পুলিশ নিহত সোহাগের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহীর মর্গে প্রেরন করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারী ) সকালে উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের.চরমপন্থী নজরুল ইসলাম ওরফে গাওড়া ও তার ভাই নওশাদ এর সঙ্গে অপর স্থানীয় গ্রুপের রহিদুল ইসলাম, রনি ও মুসলেমসহ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে পুকুর ইজারা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে উভয় গ্রুপের মধ্যে শুক্রবার রাতে ডাঙ্গাপাড়া ব্রীজ এলাকায় সংঘর্ষ বাধে।

সংঘর্ষের সময় ওই এলাকায় মাইক্রো ও সিএনজিতে আসা কিছু বহিরাগত যুবক কে স্থানীয়রা দেখতে পায়। প্রাথমিক ভাবে স্থানীয়রা তাদের কে নজরুল ইসলাম গাওড়া ও তার ভাই নওশাদের পক্ষের বহিরাগত চরমপন্থী বলে ধারনা করে। সংঘর্ষের পর এক যুবক কে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে তার পরিচয় সনাক্ত করা হয়।

এর আগে শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে মনাহার ইসলাম তাদের জমিতে থাকা সরিষা তুলতে গিয়ে হামলার স্বীকার হয় বলে জানা যায়।
নজরুল ইসলাম গাওড়া ও তার ভাই নওশাদ আলী নিষিদ্ধ ঘোষিত দল পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির (এমএল, লালপতাকা) তালিকাভূক্ত সদস্য। তারা আর্ট বাবুর নেতৃত্বে পাবনায় আত্নসমর্পন করেছিলেন বলে জানা যায়।
নিহত সোহাগের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরের কারনেই এলাকার লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সে চরমপন্থী দলের সদস্য বলে এলাকার লোকজন মনে করেছেন।

ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। হত্যার বদলা নিতে যে কোন সময় আবারো তারা সংগঠিত হয়ে এলাকায় হামলা করতে পারে বলে ধারনা করছেন এলাকার লোকজন। তবে নিহত সোহাগ চনমপন্থী নয় সে তার অসুস্থ বন্ধু কে দেখতে এসে হামলার মাঝে পড়ে নিহত হয়েছে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। নিহতের পিতা ও পরিবারের সদস্যরা বাগমারা থানায় পৌছেছে বলে জানা গেছে।

ভাগনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নয়ন হোসেন জানান, স্থানীয় ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তবে সেখানে নিহত বহিরাগত যুবক কেন এসেছিল তা তদন্ত করলে জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলার ১২ নম্বর ঝিকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, নওশাদেরা একটা জমি নেয়। সেই জমির মধ্যে অন্য জনের জমিও ছিল। জমি সংক্রান্ত মারামারি হয়েছিল। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এই জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদেন সমস্যা চলছিল।

শুক্রবার সন্ধ্যার সময়ে সর্বহারা নওশাদ, নজরুল ওরফে গাউরা, আর্টবাবু ছাড়াও বহিরাগত ১৫ থেকে ২০জন লোক নিয়ে তারা গ্রামে ঢোকে। গ্রামের মানুষ পুলিশ বলে পালিয়ে যায়। পরে থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় কোন পুলিশ গ্রামে আসেনি। খবর নিয়ে জানা যায়, তাদের মুখোশধারী, তাদের ঘাড়ে ব্যাগ আছে। থানার ওসি পুলিশ পাঠান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। পুলিশ এসে সিএনজি আটক করে। এসময় আগে থেকে থাকা সর্বহারার সদস্যরা হামলা চালায়। পুলিশ বাশি দিলে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১৫০ ফিট দূরে একজন বহিরাগত মরে পড়েছিল। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কিভাবে মারা গেছে বিষয়টি জানা যায়নি।

বাগমারা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, মামলা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসলে মামলা নেওয়া হবে। এছাড়া এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রফিকুল আলম বলেন, একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সোহাগসহ তারা রাতে কেন গ্রামে আসলো এবং সেখানে কী ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এঘটনায় থানায় মামলা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ