বাগমারার মোড়ে মোড়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করলেন ইউএনও

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২০, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে টোল আদায়সহ নানা অজুহাতে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহম্মেদ। তিনি বাগমারার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে কতিপয় দুর্বৃত্তে চাঁদাবাজি বন্ধ করে এলাকার ব্যবসায়ী মহলসহ বিভিন্ন যানবাহন ও পরিবহন মালিকদের ব্যাপক প্রশংসা ও সমর্থন যুগিয়েছেন। তবে এইধারা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও যানবাহনের মালিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল ভবানীগঞ্জের ব্র্যাক মোড়, গোডাউন মোড়ে, বাসস্ট্যান্ড, কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে টঙ ঘর বানিয়ে টোল আদায়ের মত ভ্যান থেকে শুরু করে ট্রাক, বাস, আটো, পিকআপসহ সকল প্রকার যানবাহন থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে আসছিল। এসব চাঁদাবাজরা দিনে দুপুরে ওই সব স্থানে জোর করে যানবাহন মালিকদের নাজেহাল করে ও শারীরিক লাঞ্ছিত করে টাকা আদায় করে আসছিল। এর আগে নন্দনপুর কৃষক সমিতির পরিবহন ট্রাক ভবানীগঞ্জ ব্র্যাক মোড় দিয়ে যাওয়ার পথে চাঁদাবাজরা তাদের গাড়ি আটকিয়ে টাকার দাবিতে শ্রমিকদের মারপিট করে। তারা চাঁদার জন্য যানবাহনও ভাংচুর শুরু করে। এরপ্রেক্ষিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও যানবাহন মালিকরা ইউএনওকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালে তিনি তাদেরকে আশ্বস্ত করেন। ইউএনও গত দুই দিন ভবানীগঞ্জের চাঁদা আদায়কারী ওইসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান শুরু করলে চাঁদাবাজরা পিছু হটে। পরে ইউএনও মোড়গুলোতে গিয়ে ওই সব টঙঘর ভেঙে দেন। স্থানীয়রা জানান, ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়র আবদুল মালেকের নাম ভাঙ্গিয়ে মোড়ে মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছে একটি মহল। জনপ্রিতিনিধি ও ক্ষমতাশীন দলের লোক দাবি করে ওই মহল চাঁদাবজি করলে ভুক্তভাগীরা এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। এর আগে স্থানীয় ভ্যান চালকদের দাবির মুখে এমপি এনামুল হক বাগমারার সকল ভ্যান চালকদের মোড় মোড়ে চাঁদা দিতে নিষেধ করেন। পরে এই ঘোষণা কিছু দিন বাস্তবায়ন থাকার পর আবারও শুরু হয় ভ্যান থেকে চাঁদাবাজি।
ইউএনও’র এই প্রচেষ্টা ও ঘোষণা কতদিন চলমান থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন অনেকেই। এ দিকে ইউএনও’র উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভবানীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম হেলাল, ব্যবসায়ী ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু তালেব সহ সকল ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকগণ।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, আমি থাকাকালীন এই চাঁদাবাজদের আর বসতে দেয়া হবে না। এ ভাবে চাঁদা আদায় সম্পূর্ণরূপে বেআইনি। তারা আবারও চাঁদা আদায়ের পায়তারা শুরু করলে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বসিয়ে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ