বাগমারায় আওয়ামী লীগের জয়জয়কার ।। আ’লীগ ৯, বিএনপি ৩ , বিদ্রোহী ২, স্বতন্ত্র ২টিতে বিজয়ী

আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

বাগমারায় ইউপি নির্বাচনে সাঁজুড়িয়া মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাগমারা প্রতিনিধি

শান্তিপূর্ণভাবেই রাজশাহীর বাগমারার ১৬ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই ইউনিয়নগুলোতে ভোট গ্রহন শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। দুই একটি ইউনিয়নে দলীয় নেতার্র্মীদের মধ্যে সামান্য বিশৃঙ্খলা দেখা দিলেও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে তা শান্ত করা হয়। সকালে গনিপুর ইউনিয়নের চকমহববতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে আ’লীগের দু’গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। এছাড়াও গোয়ালকান্দি ও হামিরকুৎসা ইউনিয়নের দুই একটি কেন্দ্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। শান্তিপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাগমারায় ১৬টি ইউনিয়নের বেসরকারিভাবে ফলাফল পাওয়া গেছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৯জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুইজন, স্বতন্ত্র দুইজন ও বিএনপির তিনজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিতরা হলেন, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজন কুমার সরকার, নরদাশে বিএনপির মতিউর রহমান মতিন, দ্বীপপুরে আ.লীগের বিদ্রোহী মকলেছুর রহমান, আউচপাড়ায় আ.লীগের সরদার জান মোহাম্মদ, শ্রীপুরে মকবুল হোসেন মৃধা, বাসুপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার ম-ল, কাচারীকোয়ালীপাড়ায় আ.লীগের আয়েন উদ্দিন, শুভডাঙ্গায় আ.লীগের আব্দুল হাকিম, মাড়িয়ায় আ.লীগের আসলাম আলী আসকান, গণিপুরে বিএনপির মনিরুজ্জামান রঞ্জু, ঝিকড়ায় আবদুল হামিদ ফোজদার, গোয়ালকান্দিতে আ.লীগের আলমগীর সরকার, হামিরকুৎসায় আ.লীগের বিদ্রোহী আনোয়ার আলী, যোগিপাড়ায় আ.লীগের মোস্তফা কামাল, বড়বিহানালীতে বিএনপির মাহমুদুর রহমান মিলন এবং সোনাডাঙ্গায় আ.লীগের অধ্যক্ষ আজাহারুল হক।
এদিকে ইউপি নির্বাচনের চতুর্থ দফায় গত ৭ মে উপজেলার এই ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সহিংসতার আশঙ্কায় ভোট গ্রহণের দুদিন আগে ওই নির্বাচন স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটারদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। তবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। স্থগিত হয়ে যাওয়া ওই নির্বাচন আবার অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। গতকাল ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই প্রতিটি ভোট কেন্দ্রেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিলো। তবে কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারীদের উপস্থিতি ছিলো কয়েকগুন বেশি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা দুই লাখ ৪২ হাজার ৫২৪ জন। এর মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার ৪৩১ জন পুরুষ ভোটার এবং এক লাখ ২২ হাজার ৯৩ জন নারী ভোটার। একটানা ভোট গ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
তিনি আরও জানান, এবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদে ৬৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৩৯ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৩৬ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এদের মধ্যে থেকে শুধু চেয়ারম্যান পদের একজন প্রার্থী নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বিএনপির দলীয় প্রার্থী আকবর আলী রোববার সন্ধ্যায় নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
গত ৭ মে’র নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হলেও ওই দিন উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়ায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে ওই দিনই নিহত হন দুইজন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আরও অন্তত ২০ জন। এদের মধ্যে থেকে আরও দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাই এবারের নির্বাচনকে ঘিরে কিছুটা উত্তেজনাও ছিলো। তবে এ জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করে প্রশাসন।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তার কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি। মোট ১৪৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ২২টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভোট কেন্দ্রে অতিরিক্ত একজন করে এসআই দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে দুটি করে মোট ৩২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে কাজ করেছে। প্রতিটি টিমেই একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায় নি।