বাগমারায় আ’লীগ নেতা সান্টুর কুশ পুত্তলিকা দাহ ।। ইউপি নির্বাচনে দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার অভিযোগে

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং বিরোধিতা করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে বড়বিহানালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যায়িত করে তাঁর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। শেষে জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আলীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার বড়বিহানালী স্কুল মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি তাহের আলীর সভাপতিত্বে সভায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান, যুবলীগের বড়বিহানালীর সভাপতি আব্দুল মতিন, মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক কবরী ইয়াসমিন প্রমুখ। বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হয়ে রাত আটটা পর্যন্ত সমাবেশ চলে। সমাবেশে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও দুই সহস্রাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
গত ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড়বিহানালী ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ রেজাউল করিমকে দলের সমর্থন দেয়। অপরদিকে বিএনপি থেকে মাহমুদুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুর রহমান বিজয়ী হন।
সমাবেশের বক্তারা অভিযোগ করেন, সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু সরাসরি দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপির প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের  প্রার্থীকে ভোট দিতে বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করেছেন। ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করিয়েছেন। সান্টু আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দল ও এলাকাবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বক্তারা এলাকায় তাঁকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন।
বক্তারা আরো বলেন, সান্টু বরাবরই দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বাসুপাড়া ইউনিয়নেও দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। বিজয়ের পর ওই বিরোধী দলের প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে গলায় মালা পরিয়েছেন। এতেই তার দলের বিপক্ষের অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দলের প্রধানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বক্তারা আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক নব্য আওয়ামী লীগার ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উথ্থাপন করেন।
রাতে সমাবেশ থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও ইয়াছিন আলীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।