বাগমারায় আলু খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় আগাম আলু উৎপাদনে খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। আগাম জাতের আলু কিছু খেত থেকে উত্তোলন শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় বাজার দর ভালো থাকায় প্রাথমিকভাবে কৃষকদের মুখে হাসি রয়েছে। তবে পরবর্তীতে বাজার দর ঠিক থাকলে অধিক লাভবান হবে কৃষক। লাভের আশায় কৃষকরা প্রতিদিনই খেতে পরিচর্যা করে সময় পার করছেন।
বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাগমারা উপজেলায় আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তের হাজার দশ হেক্টর। বর্তমান সময় পর্যন্ত চাষ হয়েছে স্থানীয় জাতের তিন হাজার নয়শ দশ হেক্টর ও উফসি জাতের আট হাজার আটশ দশ হেক্টর জমিতে।
বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগমারায় মৌসুমের শুরুতে বীজ, সার এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখন পর্যন্ত আলুর আবাদ ভালো রয়েছে। এর আগের মৌসূমে আলুর উৎপাদন ভালো হলেও বছর জুড়ে দাম কম থাকায় চাষিদের লোকসানের বোঝা টানতে হয়েছে। কিন্ত এবার শুরু থেকে আলুর দাম ভালো হওয়াই আলুচাষিরা লাভবান হবেন এমন আশা চাষিদের। এর মধ্যেই হাট বাজারে আগাম জাতের কিছু নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন আলু ৭০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি করছেন কৃষকরা। বাজারদর ভালো থাকলে কৃষকরা বীজ, সার, ওষুধ প্রয়োগসহ যাবতীয় উৎপাদন খরচ বাদে অধিক লাভবান হবেন বলে আশা পোষণ করছেন। মাড়িয়া ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের আলুচাষি নজরুল ইসলাম পলাশ জানান, চলতি মৌসুমে অধিক লাভের আশায় এক বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছি। আশা করছি শুরুতে যে ভাবে আলুর দাম রয়েছে এমন থাকলে গত বছরের লোকসান এবার পুষিয়ে যাবে। একই গ্রামের ইছাহাক আলী জানান, এক বিঘা জমির আলুখেত এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে। এবার আলুর জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ভালো বীজ এবং ফলনও ভালো হবে আশা করছেন তিনি। কোন রোগ-বালাই বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে ফলন ভালো হবে বলে তিনি আশা পোষণ করেন। এদিকে বাগমারায় আলু সংরক্ষণে চারটি হিমাগার রয়েছে। উপজেলায় আলু চাষকে কেন্দ্র করে ওই হিমাগারগুলো গড়ে উঠেছে। হিমাগার থাকায় কৃষকরাও সহজে তা সংরক্ষণ করতে পারে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আলুর খেত ভালো রয়েছে। কৃষকরা আলু চাষে অধিক লাভবান হবে বলে তিনি আশা পোষণ করেন।