বাগমারায় ইউপি নির্বাচনে আ’লীগ বিএনপির মর্যাদার লড়াই

আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০১৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাগমারায় আ’লীগ ও বিএনপির মাঝে মর্যাদার লড়াই শুরু হয়েছে। গত নির্বাচনে ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশি সংখ্যক বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান জয়লাভ করায় এবারো নিজেদের মর্যাদা ধরে রাখতে প্রার্থীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দরা বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে জয়লাভের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় জমে উঠায় চেয়ারম্যান প্রার্থী, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রর্থী মাঠে না থাকলেও আ’লীগের বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় অনেক ইউপিতেই বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের। এই নির্বাচনে প্রথমবার দলীয় প্রতীকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দেয়ায় এলাকায় ভোটারদের মাঝে সর্বত্রই টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনে প্রধান দুই দল আ’লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে মূলত লড়াই হলেও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকায় বেকায়দায় পড়েন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। যার কারণে ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দলীয় কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃনমূলের আ’লীগ নেতাকর্মীরা। অপরদিকে বিএনপি’র একক প্রার্থী থাকায় অনেক ইউপিতেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তারা। আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীগুলো বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে শক্তভাবে অবস্থান করায় বেকায়দায় পড়েছেন দলীয় সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তবে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তৃনমূলের নেতাকমীরা। তাদের বহিষ্কার করলে ওইসব এলাকায় নৌকার অবস্থান ভালো হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাকিরুল ইসলাম সান্টু জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইতোমধ্যেই শোকজ করা হয়েছে।
আগামী ৩১ অক্টোবর এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে ১৬ জন, বিএনপি’র ধানের শীষ নিয়ে ১৫ জন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে ৭ জন, ওয়ার্কাস পার্টির হাতুড়ি নিয়ে ১ জন প্রার্থী দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস, ঘোড়াসহ বিভিন্ন মার্কা নিয়ে ২৫ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে ৪২৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।