বাগমারায় এক ব্যক্তিকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে তুলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনেরা এ বিষয়ে বাগমারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৩৬)। তিনি উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বয়স্ক কোরআন শিক্ষার শিক্ষক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া ইমাম।
এদিকে নজরুল ইসলামকে তুলে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। একই কায়দায় গত সোমবার রাতে একই ইউনিয়নের আবদুস সামাদ নামের এক স্কুলশিক্ষককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারও হদিস পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদের ভাষ্য, ৬ অক্টোবর রাতে নজরুল ইসলাম বাড়ির পাশের একটি মসজিদে এশার নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় তার পাশে অজ্ঞাত আরও দুই ব্যক্তি নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিরা তাকে অনুসরণ করে। নজরুল বাড়ির কাছে পৌঁছালে অনুসরণ করা ব্যক্তিরা তাকে আটক করেন। পরে তাকে আগে থেকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তোলা হয়।
এসময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের পরিচয় জানতে চান। নিজেদের তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দেন। পরে সাদাপোশাকের সাত-আটজনের দলটি নজরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে শয়নকক্ষে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে মুঠোফোন ও ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সনদসহ কিছু কাগজপত্র নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা একটি হেলমেট ফেলে যায়।
এ ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনেরা স্থানীয় থানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দফতরে তার খোঁজ করেন। কোনো হদিস না পেয়ে গতকাল রাতে নিখোঁজ ব্যক্তির চাচা আবুল কালাম আজাদ বাগমারা থানায় একটি জিডি করেন।
নিখোঁজ ব্যক্তির বোন শাহিনা খাতুন বলেন, তার ভাই দাখিল পাস করার পর বয়স্ক ব্যক্তিদের কোরআন শিক্ষা দিতেন। এ ছাড়া ইমামতি করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তবে এখনো কোনো মসজিদে ইমামতি শুরু করেননি।
তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই। কী কারণে প্রশাসনের লোকজন ধরে নিয়ে গেল, তা বুঝতে পারছেন না। তবে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে কোনো সন্ত্রাসী চক্র তুলে নিতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন তারা। তিনি ভাইয়ের দ্রুত সন্ধানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামের ভাই আবু হেনা বলেন, তাদের বাড়ির কিছুটা দূরে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস ও একটি পিকআপ ভ্যান থেমে থাকতে দেখেছেন। নজরুল ইসলামকে সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি সকালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আগামী শুক্রবার ( ১৮ অক্টোবর) তাদের বড় ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, পুলিশ নজরুল ইসলামকে ধরেনি। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। নিখোঁজের বার্তা বিভিন্ন থানায় বেতারের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তাকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, তারা নজরুল ইসলাম নামের কোনো ব্যক্তিকে ধরেন নি। এ ছাড়া ঘটনার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের কোনো দল বাগমারায় যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ