বাগমারায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি



রাজশাহীর বাগমারায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গ্রাম পুলিশের নেতৃত্বে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, আমজাদ হোসেন (৩৬), স্ত্রী নুরহাজান বেগম (৩৫), ভাবী রাশেদা (৪৫) বেগম ও ভাতিজি আঞ্জুয়ারা খাতুন। আহতদের মধ্যে রাশেদা ও আঞ্জুয়ারাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আমজাদ হোসেন ও স্ত্রী নুরহাজানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের ঝাড়গ্রামের গ্রাম পুলিশ আফজাল হোসেন, তার ভাই আক্কাছ আলী, আবুল কালাম আজাদ, ছেলে ফরহাদ হোসেন ও ভাজতে মাজেদুল ইসলাম মিলে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সবার অজান্তে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুৎপাট করতে শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে বাড়ির মালিক আমজাদ হোসেন হামলাকারীদের বাঁধা দিতে গেলে তার ওপর হামলা চালায়। আমজাদ হোসেনকে হামলাকারীদের হাত দেখে রক্ষার জন্য স্ত্রী নুরজাহান বেগম, ভাবী রাশেদা বেগম ও ভাজতি আঞ্জুয়ারা খাতুন এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। হামলার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এলাকার লোকজন আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।
স্থানীয়রা আরো বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বাস্তর জমিজমা নিয়ে সামসুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ আফজাল হোসেনদের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলছিল। জমিজমাকে কেন্দ্র করে কিছু দিন পূর্বে সামসুল ইসলামের ভাই আমজাদ হোসেনের স্ত্রীকে গ্রাম পুলিশ আফজাল হোসেনের ভাইয়েরা মারপিট করেছিল। ওই ঘটনায় আমজাদ হোসেন গ্রামে বিচার দিলে এলাকার লোকজন শালিস বসিয়ে গ্রাম পুলিশদের জরিমানা করেছিল। ওই ঘটনার জের ধর্ইে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সকালে গ্রাম পুলিশ আফজাল হোসেন তার ভাই, ভাতিজাদের নিয়ে সবার অজান্তে সামসুর ইসলামের ছোট ভাই আমজাদ হোসেনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় আমজাদ হোসেনের বড় ভাই সামসুল ইসলাম বাদী হয়ে গ্রাম পুলিশ আফজাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারকারী সামসুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গ্রাম পুলিশ আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে তার ছেলে, ভাই ও ভাতিজারা পরিকল্পিতভাবে আমার ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে সবাইকে পিটিয়ে জখম করেছেন। তিনি ওই সকল হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ঝাড়গ্রামের ঘটনায় গ্রাম পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরপক্ষের অভিযোগটি পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।