বাগমারায় জমে উঠেছে ইউপি নির্বাচনী প্রচারণা

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা
আগামী ৩১ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বাগমারায় ১৬টি ইউনিয়নেই প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা করছেন।
এখানে ১৬ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৬৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারা দেশের ন্যায় এই প্রথমবারে ইউপি নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়াতে এলাকায় ভোটারদের মাঝে চরম আগ্রহ বিরাজ করছে। নির্বাচনে প্রধান দুই দলের মধ্যে মূলত লড়াই হলেও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী থাকায় অনেক স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান ভালো বলে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এতে আ’লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে ১৬ জন, বিএনপি’র ধানের শীষ নিয়ে ১৫ জন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে ৭ জন, ওয়ার্কাস পার্টির হাতুড়ি নিয়ে ১ জন এবং আনারস, ঘোড়াসহ বিভিন্ন মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২৫ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে ৪২৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চেয়ারম্যান পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন, বড়বিহানালী ইউনিয়নের আ’লীগের রেজাউল করিম রেজা, বিএনপি’র মাহামুদুর রহমান মিলন, স্বতন্ত্র হাসিনা ইসলাম, কাচারী কোয়ালীপাড়ায় আ’লীগের আয়েন উদ্দীন, বিএনপি’র আবদুল গাফফার মাস্টার, জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হক, স্বতন্ত্র আবদুস সামাদ প্রাং ও আবদুস সামাদ, শুভডাঙ্গায় আ’লীগের আবদুল হাকিম, বিএনপি’র আবদুল জলিল ও জাতীয় পার্টির আবদুস সাত্তার, আউচপাড়ায় আ’লীগের সরদার জান মোহাম্মদ, বিএনপি’র ডিএম শাফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আবদুর রাজ্জাক, স্বতন্দ্র শহিদুল ইসলাম, আবু আবদুল¬া মো. আসাদুল¬া, মাহাবুর রহমান ও রানা রহমান, মাড়িয়ায় আ’লীগের আসলাম আলী আসকান, বিএনপি’র রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র আকবর আলী, শাহজাহান আলী, রেজাউল করিম, হামিরকুৎসায় আ’লীগের শাফিকুন্নাহার, বিএনপি’র আহসান হাবিব রুমি, জাতীয় পার্টির মোহাম্মাদ আলী খামারু, স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন, দ্বীপপুরে আ’লীগের বিকাশ চন্দ্র ভৌমিক, বিএনপি’র মতিউল আলম ও স্বতন্ত্র মকলেছুর রহমান,
গনিপুরে আ’লীগের এসএম এনামুল হক, বিএনপি’র মনিরুজ্জামান রঞ্জু, জাতীয় পার্টির আফছার আলী, স্বতন্ত্র হারুন অর রশীদ, বাসুপাড়ায় আ’লীগের মাস্টার লুৎফর রহমান, বিএনপি’র জিল্লুর রহমান ও স্বতন্ত্র আবদুল জব্বার মন্ডল, গোয়ালকান্দিতে আ’লীগের আলমগীর সরকার, জাতীয় পার্টির নাছির উদ্দীন, ওয়ার্কাস পার্টির জিতেন্দ্রনাথ, স্বতন্ত্র আবদুর রাজ্জাক, আফরোজা বিবি, আবদুস সালাম, আবদুল লতিফ, শ্রীপুরে আ’লীগের মকবুল হোসেন মৃধা, বিএনপি’র আকবর আলী মলি¬ক, স্বতন্ত্র হাবিবুর রহমান, গোবিন্দপাড়ায় আ’লীগের আল মামুন, বিএনপি’র আশরাফুল ইসলাম, স্বতন্ত্র হাবিবুর রহমান, মুহা. আবদুল কাফি ও বিজন কুমার সরকার,
সোনাডাঙ্গায় আ’লীগের অধ্যক্ষ আজহারুল হক, বিএনপি’র অ্যাড. মোজাফফর হোসেন, জাতীয় পার্টির অহিদুল ইসলাম, নরদাশে আ’লীগের গোলাম শফি কামাল বাবুল, বিএনপি’র মতিউর রহমান মতিন, স্বতন্ত্র আবদুর রশীদ মাস্টার, যোগীপাড়ায় আ’লীগের মোস্তফা কামাল, বিএনপি’র আরিফুল ইসলাম রনি, স্বতন্ত্র এমএফ মাজেদুল ইসলাম, ঝিকড়ায় আ’লীগের আবদুল হামিদ ফৌজদার, বিএনপি’র সাইদুজ্জামান রতন, স্বতন্ত্র ইব্রাহিম হোসেন।
গত ৭ মে চতুর্থ ধাপে বাগমারা উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে এক যোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার দিন নির্ধারণ ছিল। সকল প্রস্ততি শেষে নির্বাচনের দুইদিন পূর্বে ৫ মে অনিয়ম ও সহিংসতার আশঙ্কায় নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিত করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে পুনরায় নির্বাচন কমিশন উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র সংগ্রহসহ প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে আগামী ৩১ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সময় সূচি নির্ধারণ করেন। এতে করে নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার প্রচারণা জমে উঠেছে। তবে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতা এড়াতে ব্যাপক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কোন রকম অনিয়ম ও সহিংসতার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ