বাগমারায় জালিয়াতি করে তালাক : স্বামী ও কাজির বিরুদ্ধে গৃহবধূর মামলা

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৭, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের এক গৃহবধূকে যৌতুকের টাকার জন্য জালিয়াতি করে নোটারি পাবলিক এ এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক দেয়ার ঘটনায় স্বামী শফিকুল ইসলাম ও কাজি আবদুুল মান্নানের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার রাজশাহীর আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ গোপীনাথপুর গ্রামের বয়েন উদ্দিন চন্দারার ছেলে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শাহানারা খাতুনের দেড় লাখ টাকা মোহরানা ধার্য করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শফিকুল ইসলাম যৌতুকের জন্য স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করে আসছিল। শফিকুল পাঁচলাখ টাকা যৌতুক দাবি করে না পাওয়ায় স্ত্রীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এর এক পর্যায়ে গত ৩ জুন যৌতুকের জন্য মারপিট করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কিছু সাদা কাগজপত্রে শাহানারা খাতুনের স্বাক্ষর নিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে গত ৫ জুলাই যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলা করা হয়। বিষয়টি স্বামী জানতে পেয়ে ওই গৃহবধূ স্বেচ্ছায় স্বামী শফিকুলকে তালাক দিয়েছে মর্মে নোটারি পাবলিকের এভিডেভিট করে। এফিডেভিটের খবর লোকমুখে জানতে পারেন শফিকুলের স্ত্রী। এরপর ওই গৃহবধূ গত ৯ জুলাই সশরীরে রাজশাহীর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে স্বামীর প্রদর্শিত তালাক সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সম্পূর্ণ যোগসাজসি এবং মিথ্যা উল্লেখ করে একটি এফিডেভিট করেন। কোন কাজির বাড়ি বা জেলা নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে স্বামীকে তালাক সংক্রান্ত কোন এফিডেভিটে স্বাক্ষর করেন নি বলে উল্লেখ করেন গৃহবধূ শাহানারা। এছাড়াও কাজির কাছে তালাকের জাবেদা কপি চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন কাজী আবদুুল মান্নান। তালাক সংক্রান্ত নোটিশ বই ও ভলিউম উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী শাহানারা। শাহানারা জানান, কাজির যোগসাজশে স্বামী শফিকুল ইসলাম তার সাথে জালিয়াতি করেছে। আমি আমার স্বামীকে তালাক দেই নি। আমি স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা চাই।