বাগমারায় দলীয় কোন্দলে জেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত ১২ নেতাকর্মী লাঞ্ছিত

আপডেট: মার্চ ২৬, ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি
দলীয় কোন্দল ও অর্šÍদ্বন্দ্বের কারণে গতকাল শনিবার বাগমারায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, যুগ্মসম্পাদক ও বাগমারা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াসহ অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী লাঞ্ছিত হয়েছেন।
বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগমারার ভবানীগঞ্জের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আসেন জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু ও যুগ্ম সম্পাদক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াসহ ১৪/১৫ জন নেতাকর্মী। দুপুরে বিয়ের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া শেষে ভবানীগঞ্জ গোডাউন মোড়ের একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করে। এসময় গোপনে মিটিং করার অভিযোগে কিছু নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ার ঘটনায় জেলা সভাপতি তপুসহ অন্তত জনকে নেতাকর্মীকে লাঞ্ছিত করেন চাঁনপাড়া এলাকার আলী (২৮), শাহীন (৩৫) ও বাবু (২৫)সহ ১২জন কর্মী। এতে করে জেলার নেতাকর্মীরা তাদের অশোভন আচরণের প্রতিবাদ জানালে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেয়ার উদ্যোগে নেয়। এ সময় জেলার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও আলী,বাবুদের মধ্যে তুমুল ধাক্কা ধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা নেতৃবৃন্দের পক্ষ নেওয়ায় স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর মারপিট শুরু করে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তেজনাকর সৃষ্টি হলে স্থানীয় কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও মোড়ের লোকজনের সহায়তায় জেলা নেতৃবৃন্দকে উদ্ধার করে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঘটনার জন্য সরাসরি পৌর যুবদলের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, শাহিনই জেলা নেতৃবৃন্দকে চায়ের দাওয়াত দিয়ে হোটেলে বসিয়ে ক্যাডারদের ইন্ধন দিয়ে তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে পৌর যুবদলের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম শাহিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নেতৃবৃন্দদের নিয়ে দুপুরে দাওয়াত খাওয়ার পর আমাদের না জানিয়ে তারা (রাজ্জাকরা) গোপনে মিটিং করায় কিছু নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ওই ঘটনার পর থেকেই বিএনপি’র মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রেই তিনি পুলিশের একটি দলকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ