বাগমারায় নির্বাচনী সহিংসতা অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট, আহত ১৭ আটক ৬

আপডেট: নভেম্বর ২, ২০১৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

index
বাগমারা প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাগমারায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, আটক ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী সংঘর্ষ ও হামলায় নারীসহ ১৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ওই সকল ঘটনায় পুলিশ একই পরিবারের ছয়জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের সাবেক ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য নজিবর রহমানের স্ত্রী আসমা বেগম ও আতাউর রহমানের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নির্বাচনে নজিবর রহমানের স্ত্রী আসমা বেগম আতাউর রহমানের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের কাছে পরাজিত হয়। গত সোমবার রাতে আতাউর রহমানের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের বিজয় মিছিল থেকে পরাজিত প্রার্থী আসমা বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময় নজিবর রহমানের লোকজন ধাওয়া করলে বিজয়ী প্রার্থী আঞ্জুয়ারার লোকজন পালিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নজিবর রহমান জেএসসি পরীক্ষার জন্য তার মেয়েকে সাথে নিয়ে শিকদারী জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে একই ইউনিয়নের মরুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে আসা মাত্রই বিজয়ী প্রার্থী আঞ্জুয়ারার স্বামী আতাউর রহমান তার লোকজন নিয়ে নজিবর রহমানের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে মারধর করে। এক পর্যায়ে নজিবর রহমান দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও হামলাকারীরা তার মেয়েকে মারধর করে এবং তার লোকজনদের সংঘবদ্ধ করে পরাজিত প্রার্থী নজিবর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট শুরু করে। অগ্নিসংযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আগুন নিভানো ও তাদেরকে প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে সংঘর্ষ বেঁেধ যায়। সংঘর্ষে নারীসহ ১৩ জন আহত হয়। খবর দেয়া হলেও পুলিশ তিন ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিসংযোগকারীদের না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৬ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, আনিছার রহমান (৪৫), বানিছার রহমান (৪০), মোনাহার আলী (১৬), মনির হোসেন (১৪), নজরুল ইসলাম (৩৫) ও সুজন মিঞা (২৮)। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।
অপরদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় পরাজিত প্রার্থীর দুই সমর্থক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে রোস্তম আলীকে স্বানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপরজন আশরাফুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত সোমবার নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় সমর্থিত প্রার্থী মাস্টার লুৎফর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জব্বারের কাছে পরাজিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পরাজিত প্রার্থী লুৎফর রহমানের সমর্থক রোস্তম আলী ও আশরাফুল ইসলাম মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় বিজয়ী প্রার্থী আবদুল জব্বারের সমর্থক মিষ্টার আলী, নাজমুল হোসেন ও সাইদ আলী তাদের লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। তাদের হামলায় রোস্তম ও আশরাফুল ইসলাম আহত হয়। ওই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ওই সকল ঘটনার পর থেকেই উপজেলার সবখানেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়াও হামিরকুৎসা ইউনিয়নের রাঁয়াপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় মোবারক হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, এলাকার পরিবেশ শান্ত করার জন্য দুইপক্ষের লোকজনকে আটক করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ