বাগমারায় পাটের আবাদ বেড়েছে

আপডেট: জুলাই ১১, ২০২১, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা:


রাজশাহীর বাগমারায় চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মৌসুমের চেয়ে উপজেলায় অন্তত দশ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বেশী আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যেই কৃষকরা পাট কেটে জাগ দেয়া আরম্ভ করেছেন। ফলনও ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। পাটের উৎপাদন ভাল হলেও আশানুরুপ দাম পাবেন বলেও আশাবাদি উপজেলার পাটচাষীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা এলাকায় ১৯৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেছেন কৃষকরা। কমে যাওয়া পাটের চাষ প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সময় ব্যাপক হারে পাটের চাষ করা হলেও গত প্রায় দশ/পনের বছর থেকে নানা কারণে পাটের আবাদ করা থেকে বিরত ছিল কৃষকরা। অনেকে মনে করেন পলিথিন জাতীয় জিনিসের কদর বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে পাটজাত দ্রব্যাদির ব্যবহার কমে গিয়েছিল। বর্তমানে পলিথিনের ব্যবহার সরকারি ভাবেই নিষিদ্ধ হবার কারনে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাট বর্তমানে তিন হাজার থেকে তিন হাজার পাঁচশ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, বাগমারায় চলতি মৌসুমে ৫৪০৪ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাটে তেমন কোন পোকা-মাকড়ের উপদ্রব দেখা না দেয়ায় এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টির কারনে পাটের উৎপাদন ভাল হয়েছে। কৃষকরা জানান, এখন পর্যন্ত পাটের বাজার দর ভাল আছে। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে প্রায় সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানা গেছে। পাটের বাজারদর ভাল থাকলে কৃষকরা আর্থিক ভাবে অধিক লাভবান হতে পারবেন। হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আলোকনগর গ্রামের নামোপাড়ার পাটচাষী আলমগীর হোসেন, আয়ুব আলী ও আব্দুল গফুর জানান, তারা এবার গতবারের চেয়ে বেশী জমিতে পাট চাষ করছেন। পাটের আবাদ ভাল হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন। আলমগীর হোসেন তিন বিঘা, আয়ুব আলী পাঁচ বিঘা ও আব্দুল গফুর চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তারা জানান, বপনের পর থেকেই গাছের চেহারা দিন দিন ভাল অবস্থায় ছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভাল হবে বলে আশা করছেন তারা।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের পাট চাষী আক্কাছ আলী মোল্লা, আব্দুল জব্বার মোল্লা, নয়ন উদ্দিন ও জাইপত আলী মোল্লাহ জানান, পাটের বাজারদর ভাল থাকলে অধিক লাভবান হতে পারবেন বলে আশা পোষন করছেন তারা। কৃষকরা জানান, বিঘা প্রতি আট থেকে বারো মণ পর্যন্ত পাটের উৎপাদন হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিুবুর রহমান জানান, উপজেলায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না হলে উৎপাদন ভাল হবে। এছাড়াও পাটের বাজার দর ভাল থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ