বাগমারায় পুলিশের সহযোগিতায় লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ

আপডেট: মার্চ ৫, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি



রাজশাহীর বাগমারার শ্রীপতিপাড়া গ্রামের এক কৃষকের বাড়ি থেকে পুলিশের সহযোগিতায় শস্য লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘরের দরজা ভেঙে সেগুলো লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। তবে পুলিশ বলেছে, অভিযোগকারীদের সহযোগিতায় সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের শ্রীপতিপাড়া গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই গ্রামের কৃষক শরিফ উদ্দিন বলেন, জমি-জমা বিষয় নিয়ে একই গ্রামের প্রভাবশালী সাঈদ আলী ও আবদুল আলিমের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি তিনি শ্রমিক দিয়ে তাঁর জমি থেকে মশুর কলাই উঠিয়ে বাড়িতে রাখেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় ভাগনদি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাকসহ একদল পুলিশ তাদের পরিবারের সদস্যদের ধরার জন্য আসছে এমন সংবাদ পাওয়ার পর তারা ভয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবেশি একজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও একজন কনস্টবল প্রতিপক্ষের সাঈদ, আলীম, সিরাজসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসে। এসময় তাদের বাড়ির দরজা বন্ধ দেখে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশ বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পুলিশ ও প্রতিপক্ষের লোকজন মিলে বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর, ঘরের মালামাল, মসুর কলাইসহ লুট করে নিয়ে যায়। তারা একটি কক্ষে ঢুকে সেখানে থাকা আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ওই গ্রামের বাসিন্দা ও হামিরকুৎসা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল করিম বলেন, পুলিশের সহযোগিতায় যেভাবে বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা জনগণের জন্য কাম্য নয়। স্থানীয় কয়েক আ’লীগ নেতাসহ আরও ১২-১৪ জন ব্যক্তি একই রকম কথা বলেছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর কৃষক শরিফ উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তালা ভাঙা ও একটি কক্ষের আসবাবপত্রের ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায়। ঘরের ভাঙা আসবাবপত্র এলোমেলোভাবে ফেলে রাখা হয়েছে।
সম্মেলনে কৃষক অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে সদ্য বিদায়ী ওসি সেলিম হোসেন তাদের ফিরিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের একজনের ভাতিজা দুদকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করেন। তার প্রভাবের কারণে থানার পুলিশ তাদেরকেই সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কৃষকের স্ত্রী শেফালী বিবি জানান, পুলিশ প্রতিপক্ষের লোকজনদের নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের বাড়িতে হানা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ সাঈদ ফকির জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের কয়েক বিঘা জমি জবরদখল করে নিয়েছে। তারা জমি ফেরত চাইলে পুলিশ দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে ভাগনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবদুর রাজ্জাক পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রতিপক্ষের খেত থেকে তিনি (শরিফ উদ্দিন) কলাই উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলো তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাড়ি চিনিয়ে দেয়ার জন্য প্রতিপক্ষের লোকজনের সহযোগিতা নেয়া হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
প্রতিপক্ষ সাঈদ আলী ফকিরও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের খেত থেকে কলাই উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল। ওই জমির বৈধ মালিক তারাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ