বাগমারায় পেঁয়াজের বীজ চাষে আশাবাদী কৃষক

আপডেট: মার্চ ১৬, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় পেঁয়াজের বীজ (কদম) চাষে খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছে কৃষক। পেঁয়াজ চাষ করতে বীজ কেনা ব্যয়বহুল হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা এলাকাতেই বীজ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। বীজ চাষ করে অধিক লাভের আশা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগমারার তাহেরপুরী পেঁয়াজের কদর বেশ আগে থেকেই। প্রায় দশ বছর আগে থেকে উপজেলার চেউখালী, গোয়ালকান্দি, হামিরকুৎসা, সাজুরিয়া, কনোপাড়া, শ্রীপুর, যোগীপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজের চাষ বাড়তে থাকে। আগে বাগমারার কৃষকরা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করার জন্য বাইরের জেলা উপজেলা হতে বীজ সংগ্রহ করতো। দেশ বিখ্যাত পেঁয়াজ বীজ বাগমারার তাহেরপুর হাটে বিক্রি হলেও তার চাষ ব্যপকভাবে ছিলো না। দিন দিন পেঁয়াজ চাষ বেড়ে যাওয়ায় অধিক ফলনের আশায় কৃষকরা ভালো জাতের বীজ সন্ধান করেন। বিশ্বস্ত কৃষকের ভালো বীজ কেনার জন্য আগ্রহী থাকে চাষিরা। প্রায় এক থেকে আড়াই হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় বীজ। অধিক লাভের আশায় উপজেলার কৃষকরা চলতি মৌসূমে পেঁয়াজের বীজের চাষ করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৫৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করা হয়েছে। তবে এ চাষ গতবারের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। যোগীপাড়া ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক আজগর আলী প্রামানিক জানান, ওই এলাকায় কৃষকরা এ মৌসূমে বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের কদমা (আল) চাষ করেছে। তিনিও নতুনভাবে প্রায় ১০ কাঠা জমিতে বীজ চাষ করেছেন বলে জানান। সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ও যথাসময়ে সেচ দিয়ে অধিক বীজ উৎপাদন করে লাভবান হবার আশায় উপজেলার কৃষকরা বীজ চাষে আগ্রহী হয়েছে বলে জানা গেছে। গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গ্রামের লুৎফর রহমান, মজিবর রহমানসহ অনেকেই কদমের চাষ করেছেন।
লুৎফর রহমান জানান, তিনি এবার আড়াই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করেছেন। অধিক লাভের আশায় খেতে যতœ সহকারে পরিচর্যা করে আসছেন বলে জানান তিনি। মজিবর রহমান জানান, ওই আবাদ চাষ ব্যয়বহুল ও অধিক পরিচর্যা করতে হয়। তবে লাভজনক হওয়ায় তিনি চাষ করেন বলে জানিয়েছেন। খরচের বিষয়ে কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে বীজ উৎপাদন করতে খরচ হয় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা। প্রাকৃতিক কোনো সমস্যা না হলে ওই জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকার বীজ বিক্রি হবে বলে কৃষকরা জানান। কদমে মৌমাছির সমারোহ ঘটলে অধিক ফলন হয়। কদম ফুলে মৌমাছির পরাগায়ন ঘটলে অথবা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেলে ফল ভালো হয় এবং অধিক উৎপাদন হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাগমারার পেঁয়াজের বীজ নিয়ে যায় কৃষকরা। বাগমারায় কৃষকদের চাহিদা মেটানোর পরও পেঁয়াজের বীজ বাইরের জেলা গুলোতে কদর থাকায় উপজেলার কৃষকদের কদম বীজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে।