বাগমারায় পেয়ারা চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন মামুন

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের শিবজাইট গ্রামের মৃত আবুল কাশেম সরদারের ছেলে জহুরুল হক মামুন। ২২ মাস আগে তিনি বাড়ির পাশে চার বিঘা জমিতে ৬৪০টি পেয়ারার চারা লাগান। এর মধ্যেই উপজেলায় একজন সফল পেয়ারা চাষি হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, মামুন পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ এলাকা থেকে ওই পেয়ারার চারাগুলো সংগ্রহ করেন। চারা লাগানোর সাত মাস পর থেকে গাছে পেয়ারা ধরতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত পেয়ারা বাগান থেকে তিনি প্রায় তিন লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছেন। গাছে গাছে আরো প্রায় তিন লাখ টাকার পেয়ারা ধরে রয়েছে। ওই বাগানে চারা লাগানোর প্রায় আট মাস পর পাশের কনোপাড়া দীঘির পাড় এলাকায় আরো দশ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আরেকটি পেয়ারা বাগান তৈরী করেন। ওই জমিতে এক হাজার দুইশ চারা নতুন ভাবে লাগিয়েছেন। তার পেয়ারা বাগান দেখাশোনার জন্য সব সময়ের জন্য একজনকে নিযুক্ত রেখেছেন। বাগানের চারপাশ সিমেন্টের খুটি বসিয়ে তারকাটা ও বাশ দিয়ে বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। মামুনের ওই বাগানে এখন প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার পেয়ারা রয়েছে। উপজেলায় সফল একজন পেয়ারা চাষি হিসেবে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
পেয়ারা চাষি জহুরুল হক মামুন জানান, উপজেলার তাহেরপুর বাজারে মিতু বিজ ভান্ডার নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই সুবাদে তার দোকানের একজন ক্রেতার আমন্ত্রণে পাশর্^বতি মঙ্গলপাড়া গ্রামে পেয়ারা বাগান দেখতে যায়। ওই পেয়ারা বাগান দেখে নিজেও একটি পেয়ারা বাগান তৈরীর পরিকল্পনা করেন। এরপর বাড়ির পাশেই চার বিঘা পরিমান নিজ জমিতে পেয়ারার চারা লাগান। পরে আরো দশ বিঘাসহ মোট চৌদ্দ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ করছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় বারো লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান পেয়ারা চাষি মামুন। অচিরেই তার খরচের টাকা উঠে আসবে বলে আশা পোষণ করেন। প্রায় দিনই তার পেয়ারা বাগান দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছেন। এছাড়াও বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা পেয়ারা কিনতে আসে প্রায় দিনই। তবে বেশির ভাগই বাগান থেকে পেয়ারা তুলে ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। ঢাকার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে ৮০ থকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এ পেয়ারা।