বাগমারায় প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারে নি জোসনার পড়ালেখা

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের মুনছুর রহমানের মেয়ে জোসনা খাতুন একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। চার বোনের মধ্যে তিনি ছাড়া তিন জনেরই বিয়ে হয়েছে। বৃদ্ধ পিতা মুনছুর রহমান অতি কষ্টে মেয়েদের বিয়ে দিতে পেরেছেন। কিন্তু জোসনা খাতুনের ইচ্ছা সে লেখাপড়া শেষ করে একটা ভাল চাকরি করবে।
উপজেলার ভবানীগঞ্জ বিশ^বিদ্যালয় কলেজে বিএ তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত জোসনা খাতুন। সংসারের চরম অভাব অনটনের মধ্যেও থেমে যায় নি তার পড়ালেখা। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও থেমে নেই তার স্বপ্ন দেখা। স্বাভাবিক গঠনের মানুষের চেয়ে কোন অংশে কম নেই জোসনার চিন্তা চেতনা। প্রতিবন্ধীতা দমাতে পারে নি তার পড়ালেখা। তার মা সাহারা খাতুন জানান, তার কোন ছেলে নেই। চারজনই মেয়ে। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। জোসনার কর্ম প্রেরণায় তিনি মুগ্ধ। ছেলের অভাব বোধ করেন না সাহারা খাতুন। সংসারের একমাত্র উপার্জন করা মানুষই হলো তার মেয়ে জোসনা খাতুন। তার কর্ম উদ্দিপনায় এলাকার সকলেই তাকে খুব ভালবাসেন।
এলাকার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শীতলাই গীভার ফাউন্ডেশন ও শীতলাই উত্তরপাড়া সমবায় সমিতির সভাপতি নারায়নগঞ্জের বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির শিপ বিল্ডিংয়ের শিক্ষার্থী ও একই গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম জানান, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও জোসনার মধ্যে ব্যাপক কর্মস্পৃহা লক্ষ্য করা যায়। ২০১৪ সালে জোসনা খাতুন রাজশাহীর আফছার হোসেন সিআরপিতে কর্মসংস্থান বিষয়ক এক মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে ওই সংস্থা হতে আর্থিক সহযোগিতা পায় সে। বাড়ি সংলগ্ন কাঠের ঢোপ তৈরী করে একটি মুদি দোকান প্রতিষ্ঠিত করেন জোসনা। তার ওই দোকানে প্রথম পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে মালপত্র কিনে দেয় ওই সংস্থাটি। এরপর থেকে পড়ালেখার পাশাপাশি মুদি দোকানী হিসেবেও পরিচিতি পায় সে। এছাড়াও বেসরকারি সংস্থা আশা শিক্ষা কেন্দ্রের সেবিকা হিসেবেও কাজ করছেন। ঝরে পড়া, গরীব শিশুদের পাঠদান করানোর কাজও করছেন তিনি।
ইতামধ্যেই যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বিশ হাজার টাকা লোন নিয়েছেন। এর আগে জমানো টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনেছিলেন। সেই ছাগল বিক্রি করে একটি সেলাই মেশিন কিনে বাড়িতেই কাজ করতেন। এরপর ওই সেলাই মেশিন নষ্ট হয়ে গেলে স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক তাকে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন। বাড়ির সদস্যদের ও প্রতিবেশীদের পোষাক তৈরীর নানা কাজ করেন জোসনা খাতুন। প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে মাসে পাঁচশ করে টাকা পায় সে। পিতা উপার্জনে অক্ষম হবার পর থেকে সংসারের যাবতীয় ব্যায়ভার নির্বাহ করতে হচ্ছে তাকে। জীবন যুদ্ধে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করেই বেঁচে রয়েছেন জোসনা। একদিকে পড়ালেখার খরচ যোগানো এবং অপরদিকে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। আর্থিক অনটনের কারনে জোসনার উচ্চশিক্ষা লাভ করে ভাল একটি চাকরীর প্রত্যাশা কি শুধুই স্বপ্ন থেকে যাবে নাকি কারো অনুপ্রেরনা ও সহযোগীতায় তার স্বপ্ন পূরণ হবে এমন কথাই সর্বদা ঘুরপাক খাচ্ছে জোসনার মনে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ