বাগমারায় ফারজানা ক্লিনিকে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ ।। রোগীর আত্মীয়দের হামলার চেষ্টা

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


অপারেশনের (সিজারিয়ান) সময় চিকিৎসকের গাফিলতি ও অবহেলার কারনে গতকাল রোববার দুপুরে বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ফারজানা ক্লিনিকে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় মৃতের আত্মীয় স্বজনরা ক্লিনিকে হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় ক্লিনিক বন্ধ করে মালিক পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। পরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকালে উপজেলার বড়বিহানালী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী ববিতা বেগমের (২৫) প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে ববিতার বাবা আবু বকর সিদ্দীক ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ফারজানা ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করেন। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ববিতাকে সিজার করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। ওই সময় ফারজানা ক্লিনিকের ভাড়াটে চিকিৎসক ইছাহাক আলী ববিতাকে অজ্ঞান করেন। অজ্ঞানের পর পরই ববিতার পেট কেটে বাচ্চাটি বের করা হয়। ববিতার জ্ঞান না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দহের সৃষ্টি হয়। ববিতার পরিবারের সদস্যদের চাপের মুখে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ববিতাকে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। সেখানে চিকিৎসকেরা ববিতাকে মৃত ঘোষনা করেন। মৃত্যুর খবরটি বাগমারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ববিতার আত্মীয় স্বজনেরা ফারজানা ক্লিনিকে হামলা চালানো চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এব্যাপারে অপারেশনের দায়ীত্বে থাকা চিকিৎসক ইছাহাক আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রিসিভ করেন নি। অপর দিকে ফারজানা ক্লিনিকের পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, ববিতার শ্বাস্বকষ্ট রোগ ছিল। চিকিৎসক না দেখে অপারেশন করলেন কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ বলেন, আমি বাহিরে আছি। ফিরে এসে বিষয়টি দেখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ ঘটনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে বাগমারা থানার পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।  কেউ মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।