বাগমারায় বিএনপি নেতার ত্রাস, হয়রানি

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর বাগমারার নরদাশ ইউনিয়নে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি, সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ ওঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সেকেন্দার আলীর ছেলে সৃজনী সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ২নং নরদাশ ইউনিয়নের রহিম বক্সের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক (৪৫) এলাকার প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। ৭/৮ বছর আগেও তিনি দিনমুজুরের কাজ করতেন। এলাকার বিভিন্ন খাস পুকুরসহ বড় বড় প্রজেক্ট দখল করে দলীয় লোকদের নিয়ে জোরপূর্বক মৎস্য চাষ করে আসছেন। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষক। কিন্তু রফিক মৎস্যচাষের জন্য পানি জমিয়ে রাখায় কৃষকরা বোরো চাষ করতে পারছে না। পূর্বের থানার বড় কর্মকর্তার সাথে সক্ষতার কারণে তাকে কেউ কিছু বলতে পারতো না। কেউ প্রতিবাদ করলেই চাঁদাবাজী, দাঙ্গাবাজী ও সন্ত্রাসীসহ বড় বড় মামলার বোঝা চাপানো হয়। এ পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের উপর ৭/৮টি চাঁদাবাজী, ১০/১২টি দাঙ্গাবাজী, সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন ধারার মামলা এবং ৯/১০টা মামলার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী তিনি। রফিকুল ইসলাম রফিক বর্তমানে নরদাশ ওয়ার্ড ইউপি সদস্য। নির্বাচনের মাঠ ফাঁকা করতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য সামসুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার চার্জশিটে সামসুল আলমকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দেখানো হয়েছে। যা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, বর্তমান নরদাশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মতিউর রহমান ও তার ঘনিষ্ট ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা রফিক ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে রেখেছেন। কোনঠাসা করার জন্য আমার পিতা ৪বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা সেকান্দার আলীকে একটি গোন্ডগোলের মামলায় ২৩/০২/১৭ইং তারিখে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করে। ওই মামালায় আমার পিতা, ভাইসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়। পরে আদালত থেকে জামিন নিলে চেয়ারম্যান আমার পিতা সেকান্দার আলীকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে মিমাংসার কথা বলে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। ওই বিচারের রায়ের কপি চাইলে তিনি আমার পিতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং সাথে থাকা ছাত্রলীগ কর্মী নরুল ইসলামকে গলা ধাক্কা দিয়ে পরিষধ থেকে বের করে দেয়। তাদের অত্যাচারে গ্রামবাসি অতিষ্ঠ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয় নি। সংবাদ সম্মেলন থেকে রফিক গংদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে ফোন দেওয়া হলে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিএনপির কোনো দায়িত্বে নেই। ব্যক্তিগতভাবে শুধু সমর্থন করি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং যে ব্যক্তি আমার নামে অভিযোগ করেছে সেই নিজেই এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাজ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলার দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। তা প্রমাণিত হয়েছে।