বাগমারায় বীজ প্রতারনায় ক্ষতির মুখে আলু চাষীরা

আপডেট: ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা


রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নকল বিএডিসি’র আলু বীজ কিনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। খেতে নকল বিএডিসি’র আলু বীজ রোপণ করে এখন জমিতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন আলুর গাছগুলো ফুলে (ক্্্্্ুকড়িয়ে) যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ খেতগুলোতে শতকরা ত্রিশ ভাগ গাছ বের হয়েছে। গাছের পাতাগুলো অনেকটা সাদা আকৃতি ধারন করছে। আলু চাষীরা আলু গাছের এই অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়েছেন। এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নের আলু চাষীরা বিএডিসি’র কার্ডিনাল জাতের আলু বীজ বপন করে যেখানে প্রতি বিঘা (৩৩শতক) জমিতে ১০০ থেকে ১২০মণ হারে আলুর ফলন হবে বলে আশা করছিলেন। এখন আলুর গাছের ফুলে যাওয়া রোগ ও গাছ না উঠা দেখে তারা ধারনা করছেন ফলন চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসবে। কৃষকরা এই ফলন বিপর্জয়ের জন্য কতিপয় সাব ডিলারের প্রতারনা ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন।
উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের কালাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন ও আকবর আলী অভিযোগ করে বলেন, তারা আলু চাষের সময় বিএডিসি’র আলু বীজের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে একাধিকবার ধর্না দিয়েও আলু বীজ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অবশেষে স্থানীয় শিকদারী বাজার থেকে সাব ডিলার জাহাঙ্গির ও সিদ্দিকের  মাধ্যমে বিএডিসি’র আলু বীজ সংগ্রহ করে আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন। প্রতি বিঘায় তাদের চাষাবাদের খরচসহ প্রায় বিশ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন জমিতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন আলুর প্রায় সব  গাছগুলো ফুলে (কুঁকড়িয়ে) যাচ্ছে। অনেক গাছের পাতা সাদা আকৃতি ধারণ করেছে। এই অবস্থায় তারা উপজেলার কৃষি দফতরে কোন পরামর্শও পাচ্ছেন না।  প্রায় একই অভিযোগ করেন বালিয়া গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন, আব্দুর রহমান, সেকেন্দার আলী ও আব্দুল কালাম। তারা গড়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ বিঘা জমিতে বিএডিসি’র আলু বীজ রোপন করে এখন ধরাশায়ী হয়েছেন।
আলু চাষীরা জানান, তারা স্থানীয় যাত্রাগাছি বাজারের সাব ডিলার ময়েন উদ্দিনের কাছ থেকে বিএডিসি’র প্যাকেটজাত আলু বীজ ক্রয় করেছিলেন। ওইসব প্যাকেটের সীল মোহর দেখে তারা বুঝতে পারেন নি আলু বীজগুলো আসল বিএডিসি’র নয়।
তারা আরো জানান, সেসময় এলাকায় বিএডিসি’র আলু বীজের ব্যাপক চাহিদার কারণে কতিপয় ডিলার ও প্রতারক চক্রের যোগসাজসে বিএডিসি’র অনুরুপ প্যাকেটজাত করে এলাকায় ট্রাক ভর্তি করে ব্যাপক হারে নকল বিএডিসি’র আলু বীজ আমদানি করা হয়। সে সময় কৃষক কিছু বুঝে ওঠার আগে তাদেরকে এসব নকল আলু বীজ ধরিয়ে দেয়া হয়। এখন আলু চারা গজিয়ে গাছগুলো বড় হয়ে যাওয়ার পর তারা বুঝতে পারছেন প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি।
অপরদিকে হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আলোকনগর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, চলতি মৌসূমে তিনি প্রায় দশ বিঘা জমিতে আলুর চাষাবাদ করছেন। বাজার থেকে বিএডিসির বীজ এনে রোপন করা হলেও এক বিঘা খেতে প্রায় ৭০ ভাগ গাছ বের হয় নি। এতে তিনি আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। একই অভিযোগ করেছেন আলুচাষী আজিমুদ্দিন।
তিনি বলেন, বাজার থেকে বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছি। খেতের বেশির ভাগে আলুর কোন গাছ বের হয় নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, বাগমারায় এবার ১৩ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হলেও লক্ষমাত্রার প্রায় কাছাকাছি জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে।
তিনি বাগমারায় বিএডিসি’র আলু বীজের ব্যাপক চাহিদার কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে কৃষকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিএডিসি’র আলু বীজ। তবে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বিএডিসি’র আলু বীজ সরবরাহের সুযোগ সীমিত। এবার আমরা ৪০০ জন কৃষকের মাঝে ৫ বস্তা করে বিএডিসি’র বীজ সরবরাহ করেছি। ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আমরা সবার মাছে বিএডিসি’র আলু বীজ সরবরাহ করতে পারি নি।  তিনি বিএডিসি’র নামে নকল আলু বীজ কিনে কৃষক প্রতারিত হওয়ার বিষয়ে কৃষি বিভাগের উদাসীনতার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে বলেন, আমরা কৃষকদের সব সময় অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে আলু বীজ ক্রয় করতে বলে আসছি। তার পরও কোন কৃষক আলু বীজ কিনে প্রতারিত হলে প্রমানসহ তারা অভিযোগ দায়ের করলে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।