বাগমারায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও আত্মীয়কে মারপিটের ঘটনায় মামলা || আ’লীগ নেতা হান্নান গ্রেফতার

আপডেট: মার্চ ৪, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া মহল্লায় মাদ্রাসা শিক্ষক ও তার আত্মীয়কে মারপিট ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষক আয়ুব আলী বাদী হয়ে ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নানসহ সাত জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ভোরে আ’লীগ নেতা আবদুল হান্নানকে চাঁনপাড়া মহল্লার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, একই মহল্লার জিল্লুর রহমান, উজ্জল হোসেন, ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজের এমএলএসএস নাছের আলী, শহিদুল ইসলাম ভুট্টু, দারাজ আলীও আশরাফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁনপাড়া এলাকার স্থানীয় ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা আবদুল হান্নান কথিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দলের নাম ভাঙিয়ে বিদ্যুৎ দেয়ার নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে এবং এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজিসহ নানা ভাবে প্রভাব খাটিয়ে আসছে। তাদের এসব কর্মকা-ের প্রতিবাদ করলে তাদের এলাকা ছাড়ার হুমকি প্রদান করা হয় বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব হাসান জানান, ওই ঘটনায় মারপিট, চাঁদাবাজি ও বাড়িতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত আবদুল হান্নানকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় মামলার বাদী মাদ্রাসা শিক্ষক আয়ুব আলীকে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে তাকে পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান আয়ুব আলী।
গত বুধবার উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের আবদুল ওয়াহেদের ছেলে বিপ্লব উদ্দিন তাঁর আত্মীয় চানপাড়া গ্রামের মাদ্রাসার শিক্ষক আয়ূব আলীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন জেনে স্থানীয় বাসিন্দা ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নানের নেতৃত্বে স্থানীয় সাত-আটজন কর্মী মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়ি ঘিরে ফেলে। তারা বাড়িতে ঢুকে মাদ্রাসার শিক্ষকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে আয়ুব আলী ও তার আত্মীয়কে মারপিট করে চাঁদা আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অন্যায় করলে কাওকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।