বাগমারায় মাদ্রাসা শিক্ষক ও তার আত্মীয়কে মারপিট || টাকা দিয়ে রক্ষা

আপডেট: মার্চ ৩, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে তার এক আত্মীয়কে মারপিট করা হয়েছে। তাকে উদ্ধার করতে আসলে মাদ্রাসা শিক্ষককেও মারপিট করা হয়। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা মারপিটের পর মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মারপিটের অভিযোগ স্বীকার করলেও টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১ মার্চ) উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের আবদুল ওয়াহেদের ছেলে বিপ্লব উদ্দিন তার আত্মীয় চানপাড়া গ্রামের মাদ্রাসার শিক্ষক আয়ূব আলীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন জেনে স্থানীয় বাসিন্দা ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নানের নেতৃত্বে স্থানীয় সাত-আটজন কর্মী মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়ি ঘিরে ফেলে। তারা বাড়িতে ঢুকে মাদ্রাসার শিক্ষকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ আনেন। এসময় মাদ্রাসা শিক্ষক আয়ূব আলী আগন্তক যুবক বিপ্লবকে তাদের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন এবং তিনি বাড়িতে আছেন এবং তার স্ত্রী কোনো অনৈতিক কার্যকলাপ করেন নি বলে জানান। এতে নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে আগন্তক যুবককে ধরে লাঠি দিয়ে মারপিট করেন। এসময় শিক্ষক এগিয়ে আসলে তাকেও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। এই পরিমান টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং ঘটনাটি প্রকাশ করা হবে না বলে জানান নেতারা। পরে শিক্ষক ৪০ হাজার টাকা বের করে দেন। আগন্তক যুবকরা আরো টাকার জন্য শিক্ষকের উপর নির্যাতন চালিয়ে আরো ২০ হাজার টাকা আদায় করেন।
শিক্ষক আয়ূব আলী ও আত্মীয় বিপ্লব জানান, তাদের জিম্মি করে টাকা ও বাড়ির কিছু গহনাপতি নেয়া হয়েছে। তাদের লাঠি দিয়ে মারপিটও করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি আবদুল হান্নান ছাড়াও একই দলের কর্মী নাসের আলী, দারাজ, ভুট্টুসহ কয়েকজন জড়িত বলে জানা যায়। টাকা নেয়ার জন্যই তারা নির্যাতন করেছেন এবং মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।
নির্যাতন করে টাকা নেয়া হলেও তারা কেন মামলা বা প্রশাসনকে জানান নি এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, মান-সম্মানের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। শিক্ষক জানান, তার বাড়ি নাটোরে। তিন বছর আগ থেকে চাঁনপাড়ায় বাড়ি কিনে সেখানে বসবাস করছেন। এই কারণেও মামলা করেন নি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল হান্নান জানান, সামাজিকভাবে তাদের শাসন করা হয়েছে মাত্র। তবে তিনি পত্রিকায় কিছু না লেখার জন্য অনুরোধ করেন। তবে নাসের আলী জানান, অনৈতিক কাজের অপরাধে মারপিট করা হয়েছে, তবে কোনো টাকা নেয়া হয় নি।
এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। তবে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।