বাগমারায় শিয়ালের কামড়ে ২৭ জন জখম

আপডেট: জুন ২৮, ২০২২, ১০:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাগমারা প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে শিয়ালের আক্রমণে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন ১৮ জন। যাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর চারজনকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (২৮ জুন) জুন ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে বরজে পান ভাঙতে গেলে ৮ থেকে ১০টি শিয়ালের একটি দল কৃষকদের উপর হামলা করে। আগে থেকেই ওই পানবরজে শিয়ালগুলো লুকিয়ে ছিল। প্রথমে একজনের উপর হামলা করলে অন্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শিয়ালের কামড়, আঁচড় ও পালাতে গিয়ে ২৭ জন আহত হন। এদের মধ্যে কামড় ও আঁচড়ে আহত হন ১৮ জন। পরে গ্রামবাসী ধাওয়া করে একটি শিয়ালকে পিটিয়ে মেরে ফেললেও অন্যগুলো পালিয়ে যায়।

বাগমারা উপজেলার শ্রীপুরের গ্রামের লোকজন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের পানবরজে কাজ করতে যান মনসুর। পানবরজে ঢুকতেই শিয়াল এসে তাকে ঘিরে ধরে কামড়ানো শুরু করে। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর গ্রামের অন্য শ্রমিকেরা আলাদা-আলাদা পানবরজে গেলে তারাও শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন। এভাবে শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন কৃষকসহ অন্যরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আরও এক কৃষককে আক্রমণ করতে গেলে লোকজন একটি শিয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করে।

তারা জানান, শিয়ালটি কামড়াতে এসেছিল। এ সময় লোকজন জড়ো হয়ে ধাওয়া দিয়ে শিয়ালটিকে পিটিয়ে হত্যা করেনে। শিয়ালকে পালানোর সুযোগ দেওয়া হলেও না পালিয়ে আক্রমণ করে। এ জন্য বাধ্য হয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইনতাজ আলী বলেন, শ্রীপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল পান। নদী ও বিলের ধারে পানবরজগুলো স্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিয়াল ছিল না। আর ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মানুষের প্রতি আক্রমণ এটাই প্রথম। লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

আহত আমিনুল ইসলাম বলেন, পানবরজে শিয়াল থাকে। তারা কোনো দিন সেগুলোকে মারেন নি। শিয়ালও কোনো দিন আক্রমণ করে নি। দিনের বেলায় তারা পানবরজে নির্বিঘেœ কাজ করেন। তবে রাতের বেলায় শিয়ালগুলো আহারের জন্য বের হয়। কেন আজকে (মঙ্গলবার) এভাবে কামড়ানো শুরু করল, তা বুঝতে পারছেন না। বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধা বলেন, শিয়ালকে না মারার জন্য ও লোকজনকে সর্তক হয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে। সর্তক করে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। তবে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বাগামারা উপজেলার উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বন্য প্রাণিকে মেরে ফেলা ঠিক নয়।
বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানি বলেন, শিয়ালের কামড় ও আঁচড়ে আহত ১৮ জনের মধ্যে চারজনকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরা হলেন, লোকমান আলী, আব্দুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও আফসার মৌলভি। এছাড়াও অপর ১৪ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নিতে রেফার্ড করা হয়েছে।

আহত অন্যদের মধ্যে হাবিবুর রহমান, আব্দুল মান্নান, নাঈম হোসেন, মকবুল হোসেন, আইনাল হক, আব্দুস সালাম, কাশেম আলী, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল গফুর, রুহুল আমিন, মুনসার রহমান, আজিজুল ইসলাম ও তার চার বছর বয়সের মেয়ে আফসানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক জানান, মঙ্গলবার ভোরে পান বরজে কৃষকরা শিয়ালের হামলার শিকার হন। শিয়ালগুলো পান বরজে লুকিয়ে ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না থাকায় কামড়ে বেশী আহত এমন চারজনকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মধ্যে যারা কামড়ে বা আঁচড়ে আহত হয়েছেন তাদেরকেও ভ্যাকসিন দিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ