বাগমারায় স্বামীর নির্যাতনে বিষপানে গৃহবধূ মৃত্যুর অভিযোগে মামলা

আপডেট: মার্চ ২৮, ২০১৭, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারায় স্বামীর নির্যাতনের কারণে বিষপানে গৃহবধূ মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক পল্লি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতিরও অভিযোগ পাওয়া যায়। নিহত গৃহবধূ শারমীন সুলতানা (২১) দুর্গাপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাবলুর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবদূর বাবা বাবলুর রহমান বাদী হয়ে পল্লি চিকিৎসক টুকুসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ নিহত গৃহবধূ শারমীন সুলতানার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।
বাগমারা থানার মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর পূর্বে দুর্গাপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাবলুর রহমানের কন্যা শারমীন (২১) সুলতানার সঙ্গে পাশের বাগমারা উপজেলার সাদোপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দীনের ছেলে হাফিজুর রহমানের (৩৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী হাফিজুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য গৃহবধূ শারমীন সুলতানার উপর শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। গত রোববার সকালে যৌতুকের কারণে স্বামী হাফিজুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা গৃহবধূ শারমীন সুলতানাকে মারপিট করে বাবার বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করে। শারমীন সুলতানা গরীব পিতার সন্তান বলে তিনি যৌতুকের টাকা আনতে বাবার বাড়িতে যান নি। শারমীন না যাওয়ায় স্বামীর পরিবারের সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে আবারো মারপিট করে। তাদের মারপিটে শারমীন সুলতানা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তিনি বাড়ির লোকজনের অগোচরে বিষ (কীটনাশক) পান করে। বিষয়টি বাড়ির লোকজন টের পেয়ে পল্লি চিকিৎসক টুকুকে নিয়ে আসে। বিষ খাওয়ার বিষয়টি শারমীনের বাবা বাবলুর রহমান জানতে পারেন এবং সন্ধ্যায় তারা লোকজন নিয়ে দুর্গাপুরের ডাঙ্গাপাড়া থেকে বাগমারা উপজেলার সাদোপাড়া গ্রামে জামাই হাফিজুর রহমানের বাড়িতে আসেন। পল্লি চিকিৎসক টুকুর চিকিৎসার কারণে হাফিজুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা শারমীন সুলতানাকে হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতেই রেখে দেয়। শারমীনের বাবার বাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে চিকিৎসক টুকু তাদেরকে হাসপাতালে যেতে না দিয়ে বিদায় করে দেয়। তারা বাড়িতে ফিরে আসার সময় রাস্তার মধ্যে জানতে পারেন শারমীন অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমন খবরের ভিত্তিতে তারা জামাই হাফিজুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখেন শারমীন সুলতানা মারা গেছে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তারা বাবা বাবলুর রহমান বাগমারা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শারমীন সুলতানার লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওই ঘটনায় নিহত গৃহবধূ শারমীন সুলতানার বাবা বাবলুর রহমান বাদী হয়ে পল্লি চিকিৎসক টুকু ও জামাই হাফিজুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, যৌতুক ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ওই মামলায় এখানো কাউকে গ্রেফতার করতে পারে নি বলে জানা গেছে। নিহত গৃহবদূ শারমীন সুলতানার আট মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ