বাগমারা ও পত্মীতলায় সরকারি বই বিতরণে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা ও পত্মীতলা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারা ও নওগাঁর পতœীতলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সরকারি নতুন বই বিতরণে টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই দিতে গিয়ে টাকা নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
বাগমারার উপজেলার মচমইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এ স্কুলের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেয়ার সময় ভ্যান ভাড়ার নামে টাকা নিয়েছে। উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, সরকার যেহেতু বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই দিচ্ছেন, সেক্ষেত্রে আমরা কোনোভাবেই বইয়ের বিনিময়ে টাকা নিতে পারি না। বই দেয়ার সময় কোন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে, সরকার সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আর আমরা কেন বিনামূল্যের বইয়ে টাকা নিবো। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, স্যারেরা টাকা ছাড়া বই দিবে না তাই টাকা দিয়েই নিতে হচ্ছে বই। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দশ টাকা করে নেয়া হচ্ছে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
টাকা নেয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আলী হাসান বলেন, আমার বিদ্যালয়ের সভাপতি অসুস্থ্য হওয়ার কারণে আমি তার সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছি। তাই এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।
অন্যদিকে নওগাঁর পতœীতলার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, উপজেলার ৮৭ নম্বর নেপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিনামূল্যের বই বিতরণে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।  ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাইমা বলেন, আমাদের হেড ম্যডাম মানছুরা আপা ১০টাকা নিয়ে নতুন বই দিয়েছেন। আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোরশেদা বেগম জানান, আমার মেয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মিম্মাতুন বই নিতে গেলে তার কাছ থেকে কাছ থেকে ১০ টাকা নেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিউলি খাতুন। টাকা নেয়ার বিষয়ে শিক্ষকরা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা বেশি। অনেকে এখনও বেতন পান না, আপনারা এগুলো বুঝবেন না, তিনজন শিক্ষকের এখনো বেতন হয় নি।
অভিভাবক হাফছা খাতুন জানান, আমার সন্তানের নতুন বই নিতে ১০ টাকা প্রধান শিক্ষিকা নিজে নেন। এসময় সহকারী আরো ৪ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। কোন রশিদ ছাড়া টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষকরা জানান, মিষ্টি খাওয়ার জন্য মাত্র ১০ টাকা করে সবার কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন বছরে নতুন বই নিতে ১০ টাকা করে হেড ম্যাডামের নির্দেশে স্যারেরা মিষ্টি খাওয়ার জন্য নিয়েছেন। যারা আজ টাকা দিয়েছে তারাই শুধু বই পেয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাসুদ রানা জানান, আমার  ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। বছরের প্রথম দিন নতুন বই দেয়ার কথা থাকলেও বই পাই নি। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আজ বই নেই, কাল পাবে।
৮৭ নম্বর নেপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. মানছুরা জানান, অভিযোগটি আসলে তেমন কিছু নয়। কারো কাছে নতুন বই বিতণের নামে টাকা নেয়া হয় নি বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে পতœীতলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিনামূল্যের বই বিতরণে টাকা নেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।