বাগাতিপাড়ায় পরিত্যক্ত মিলনায়তন || ঝুঁকি নিয়ে চলছে তিন সরকারি দফতরের কার্যক্রম

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

মসগুল হোসেন ইতি, বাগাতিপাড়া


বাগাতিপাড়ায় পরিত্যক্ত এ মিলনায়তনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে সরকারি দফতরের কার্যক্রম-সোনার দেশ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রায় ২১ বছর পূর্বে পরিত্যক্ত হওয়া মিলনায়তনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে তিনটি সরকারি দফতরের কাজ। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন ওই দফতরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দ্বিতল ভবনটির উপরের তলায় রয়েছে মৎস্য দফতর এবং নিচতলায় খাদ্য দফতর ও উপজেলা পল্লি দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন। এদিকে পরিত্যক্ত হলেও ওই দফতরগুলি থেকে ভাড়াও আদায় করছে উপজেলা প্রশাসন। অন্যদিকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত অডিটোরিয়ামটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিকর্মীরা।
জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে উপজেলা মিলনায়তনটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১২ বছর কার্যক্রম চালানোর পর ব্যাবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মিলনায়তনের সব কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে স্থান সংকুলান না হওয়ায় দফতর তিনটিকে পরিত্যক্ত মিলনায়তনে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রায় ২১ বছর ধরে এভাবেই চলছে এসব বিভাগের কাজ। এদিকে গত বছর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস নবনির্মিত আইসিটি ভবনে স্থানান্তরিত হলেও নতুনভাবে উপজেলা পল্লি দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন নামের আরেকটি দফতরকে পরিত্যক্ত ভবনে তুলে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রীতিমতো দফতরটি থেকে মাসিক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে কাটাতে হয় এসব দফতরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার অনুপযোগী মিলনায়তন ভবনের কক্ষ মৎস্য দফতরের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বছর দেড়েক পুর্বে ছাদের হুক খুলে সিলিং ফ্যান চলতি অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল, তবে কেউ আহত হন নি। বিষয়টি সেসময় কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ছাদের কিছু অংশ এবং দেয়াল সংস্কার করা হয়েছিল।
মৎস্য কর্মকর্তা ইরিনা মৌসুমী জানান, ছাদ থেকে প্রায়শই পলেস্তার খসে পড়ে। তবে তিনি অফিসের কার্যক্রম চালানোর জন্য স্থায়ী নিরাপদ ব্যবস্থা আশা করেন। পল্লি উন্নয়ন দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক জাকির হোসেন জানান, তাদের দফতরটি নিচের তলায় মাসিক এক হাজার টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ নিয়েছেন। গত জুন মাস পর্যন্ত ওই ভবনের ভাড়া ইউএনও অফিস বরাবর পরিশোধও করেছেন। তিনি বলেন, তাদের ব্যবহৃত ওয়াশরুমের ছাদের পুরো অংশের পলেস্তার খসে গেছে। তিনি উপজেলার একটি সভায় বিষয়টি জানিয়েছেন।
অফিসারস ক্লাব কালাচারাল একাডেমির সংগীত পরিচালক আরশাদ মাহমুদ জানান, ১৯৮৫ সালে মিলনায়তন নির্মাণের পর অনেক জাতীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সেখানে করা হয়েছে। পরে ১৯৯৭ সালের ১৭ এপ্রিল সব শেষ তিনি সেখানে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছিলেন এবং সেই অনুষ্ঠানের পর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মিলনায়তন আর ব্যবহার করতে দেয়া হয় নি। বর্তমানে এর গ্রিণ রুম ও অফিস কক্ষতে সরকারি দফতরের কাজ চলছে। তবে তিনি ওই পরিত্যক্ত ভবনটি দ্রুত ভেঙে নতুনভাবে অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের দাবি জানান। এসব বিষয়ে এলজিইডি দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ বা নির্মাণ সংক্রান্ত কোন তথ্য পাওয়া যায় নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেন, আধুনিক উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন পেলে মিলনায়তনসহ দফতর তিনটির জায়গার সমস্যার সমাধান হবে।